কলকাতায় এই ধরনের সিঙ্কহোল তৈরি হলে মেট্রো রেলের টানেল ছুঁয়ে যাবে। শহরের প্রথম মেট্রোর টানেল রয়েছে রাস্তা থেকে ৬০ ফুট নীচে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 September 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় কি সিঙ্কহোল (Sinkhole) হতে পারে? এই শহরে কি সিঙ্কহোল অতীতে হয়েছে?
তাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককের (Bangkok, the capital city of Thailand) রাস্তায় বুধবার ভয়াবহ সিঙ্কহোল তৈরির পর ঢাকা, কলকাতা-সহ উপমহাদেশের অনেক শহরেই এই বিপদ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে ভূ-বিজ্ঞানী এবং নগর পরিকল্পকারীদের মধ্যে।
ব্যাঙ্ককে যে সিঙ্কহোলটি তৈরি হয় সেটি ছিল ৩০ মিটার প্রশস্ত এবং ৫০ মিটার (১৬০ ফুট) গভীর। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায় যে আশাপাশের বাড়িগুলি থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। রাস্তার ধারে অবস্থিত একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে রোগীদের সরিয়ে নিতে হয়। সিঙ্কহোল তৈরির পর পানীয় জল এবং নিকাশি নালা ফেটে গিয়ে অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কলকাতায় এই ধরনের সিঙ্কহোল তৈরি হলে মেট্রো রেলের টানেল ছুঁয়ে যাবে। শহরের প্রথম মেট্রোর টানেল রয়েছে রাস্তা থেকে ৬০ ফুট নীচে।
সিঙ্কহোল হল মাটির উপরের স্তরের এমন একটি প্রাকৃতিক অবনমন বা গর্ত, যা নীচের কোনও স্তর ধসে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়। বড় বড় শহরে সাধারণত বড় বড় রাস্তায় ওই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাতে আশপাশের বাড়িঘর ভেঙে পড়াও অসম্ভব নয়।
ভূতত্ত্ববিদ ও নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, সিল্কহোল মূলত মাটির নিচে ক্ষয় হয়ে এক ধরনের শূন্যস্থান তৈরি হওয়া, যা পরবর্তী সময়ে মাটির ওপরের স্তর দুর্বল করে তোলে। একটা সময় তা ধসে পড়ে। বছর দশেক আগে গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের সামনের রাস্তায় বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল। তখন শহরে সিঙ্গহোল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট মহলে। গোলপার্কের মতো বড় মাপের না হলেও কলকাতায় রাস্তার একাংশ বসে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটা ব্যাঙ্ককের মতো বড় আকারের হলে আশপাশের বাড়িঘর ভেঙে পড়াও অসম্ভব নয়।
কলকাতায় এমন সম্ভাবনা কেন উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা? বলা হচ্ছে, সিঙ্কহোল তৈরি হয় যে যে কারণে তার সব ক’টিই কলকাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্রমাগত মাটির নীচ থেকে জল তোলার ফলে একটা শূন্যতা তৈরি হয়। কলকাতার বেশিরভাগ বহুতলেই পাম্প দিয়ে মাটির নীচ থেকে জল তোলা হয়। এমন অনেক পাম্পের অনুমোদন নেই। আবার গোটা শহর কংক্রিটের চাদরে ঢাকা পড়ে যাওয়ায় বৃষ্টির জল মাটির নীচে পাঠানোর সুযোগ সীমিত। বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যাপারেও নাগরিকদের তেমন সচেতন করে তোলা যায়নি।
এছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, মাত্রাতিরিক্ত বহুতল নির্মাণ, মাটির নীচ দিয়ে অতিরিক্ত খোঁড়াখুঁড়ির ফলেও সিঙ্কহোল তৈরি হয়। কলকাতায় এই সব সমস্যাই আছে। সেই সঙ্গে ধারাবাহিক অতিবৃষ্টিও সিঙ্কহোল তৈরির কারণ হতে পারে। ব্যাঙ্ককে গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির পর সিঙ্কহোলটি তৈরি হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মাটির নীচ থেকে জল তোলার সমস্যাকে। এরফলে জলের স্তর ক্রমশ নীচে নামছে। ফলে উপরের মাটি এবং তার উপরে থাকা নগরের ভার বহনের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে নীচের দুর্বল স্তরের। কলকাতায় এই সমস্যা যথেষ্ট বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট পুর আধিকারিকেরা।