দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথম ইনিংসেই দাপিয়ে ব্যাটিং করছে বর্ষা। তিন চার দিন ধরে বৃষ্টিতে বিরাম নেই। কখনও মাঝারি কখনও ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ছে শহর কলকাতার একাধিক এলাকা।
গতকাল রাত থেকেই ভিজেছে কলকাতা। বৃষ্টির বেগ বেড়েছে মাঝরাতে। সকালে উঠে নাগরিক জীবনের জলযন্ত্রণার ছবিটা আরও একবার সামনে চলে এসেছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ, জলমগ্ন কলকাতার অলিগলি।
ইয়াস বিপর্যয়ের আগে থেকেই বর্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। জল যাতে না জমে তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে যে হারে বৃষ্টি হয়েছে তাতে দেখা গেছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। জমা জল নামেনি। সাধারণের ভোগান্তিও চরমে উঠেছে।
আজ দিন দশেক হল রাজ্যে পা রেখেছে বর্ষা। জোড়া নিম্নচাপের ফলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আগে থেকেই ছিল। সেই অনুযায়ী একেবারে ভেসে গেছে শহর। অবধারিত ভাবেই আঙুল উঠেছে পুরসভার দিকে। এ যেন শত সাজসরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নেমে, ডাহা ফেল।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল পুরসভায় উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মূলত শহরের আদিগঙ্গা ও তার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। ফিরহাদ আগেই বলেছিলেন, পুরসভা প্রস্তুত ছিল। তবে প্রকৃতির উপর কারও হাত নেই। পুরসভার কাছে কোনও জাদুকাঠিও নেই। আগামী বছরের বর্ষায় আর কলকাতায় জল জমবে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
জানা গেছে, টালি নালার সংস্কারের কাজের জন্য যে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল, তাতে একটিমাত্র সাড়া মিলেছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে অনুমোদনের জন্য চিঠিও গিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ক অর্ডার বেরোতে পারে। গড়িয়া থেকে দই ঘাট সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নালা পরিষ্কার করার জন্য ৪০৭ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। সময় লাগবে ৩০ মাস।
বিভিন্ন এলাকায় জল জমে থাকায় আবার বিদ্যুৎ পরিষেবাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগটা সহজেই অনুমেয়। প্রশ্ন একটাই, কবে বৃষ্টি থামবে, কবেই বা জল নামবে।