অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে সরশুনা থানার পুলিশ। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি, আবাসনের বাসিন্দাদের গতিবিধিও খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে আসে, রানি শুক্লার ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওই আবাসনেরই বাসিন্দা হর্ষবর্ধন সাউয়ের।

ধৃত যুবক
শেষ আপডেট: 3 February 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমিকাকে খুশি করতে দামি উপহার দেওয়ার ইচ্ছে শেষ পর্যন্ত শ্রীঘরের রাস্তা দেখাল এক কলেজ পড়ুয়াকে। দক্ষিণ কলকাতার সরশুনা (Sarsuna Theft) এলাকায় একটি অভিজাত আবাসন থেকে নগদ ২৬ লক্ষ টাকা ও সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হর্ষবর্ধন সাউ নামে এক যুবক (Arrest in Sarsuna Theft)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই যুবকের কোনও স্থায়ী উপার্জন নেই। শনিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি জানুয়ারি মাসে। পুলিশ জানিয়েছে, সরশুনা থানা (Sarsuna PS) এলাকার একটি নামী আবাসনের টাওয়ার থ্রি-তে চুরির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ থেকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে ওই টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না মিলিয়ে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি উধাও হয়ে যায়। ফ্ল্যাটের মালকিন রানি শুক্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে বাইরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই তাঁর ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে চুরি করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে সরশুনা থানার পুলিশ। আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি, আবাসনের বাসিন্দাদের গতিবিধিও খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তদন্তে উঠে আসে, রানি শুক্লার ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত ছিল ওই আবাসনেরই বাসিন্দা হর্ষবর্ধন সাউয়ের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি ফ্ল্যাটে ঢুকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ।
পুলিশি জেরায় ধৃত যুবক নাকি স্বীকার করেছেন, প্রেমিকার আবদার মেটাতেই এই চুরির পথ বেছে নিয়েছিলেন। পড়াশোনার সূত্রেই তাঁদের পরিচয় এবং পরে সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে নিজের আর্থিক অবস্থার কারণে তিনি প্রেমিকাকে উপহার দিতে পারতেন না। সেই আক্ষেপ থেকেই দামি উপহার জোগাড় করার জন্য এই চুরি করেন বলে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন হর্ষবর্ধন।
এই ঘটনায় ধৃত যুবকের প্রেমিকার কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, প্রেমিকা বিষয়টি জানতেন কি না বা চুরির অর্থ ও গয়না ব্যবহারের সঙ্গে তিনি কোনও ভাবে যুক্ত ছিলেন কি না, সেই দিকটিও খোলা রেখে তদন্ত চলছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি হর্ষবর্ধন সাউকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি সংক্রান্ত একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, জেরার মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। বিশেষ করে চুরি যাওয়া টাকা ও গয়নার পুরোটা উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের। প্রেমের টানে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত যে কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনল, তা নিয়েই এখন সরশুনা জুড়ে চর্চা।