হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানিয়েছেন, তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে করে নিয়ে যাননি। অভিযোগে যে নথি ও ফাইলের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব দলীয় নথি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় (I-PAC ED Raid Case) সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Govt)। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) আনা সব অভিযোগ খারিজ করে শীর্ষ আদালতে পাল্টা হলফনামা জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের তরফে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, ইডির অভিযোগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই এবং এই মামলাই খারিজ করা উচিত।
হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানিয়েছেন, তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে করে নিয়ে যাননি। অভিযোগে যে নথি ও ফাইলের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব দলীয় নথি। আরও বলা হয়েছে, সেই নথি নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে ‘চুরি’ বা বেআইনি ভাবে নথি সরানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে রাজ্যের বক্তব্য।
ইডির অভিযোগ ছিল, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্ত চলাকালীন আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈন (I-PAC Pratik Jain) এবং তাঁর সল্টলেকের অফিসে (I-PAC Kolkata Office Raid) তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে গিয়ে তদন্তে বাধা দেন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় নথি ও ডিজিটাল সামগ্রী সরানোরও চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা পাল্টা হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রী এই সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
রাজ্যের আরও দাবি, এই সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। সেই অবস্থায় ইডির তরফে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার নেই। হলফনামায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন একই বিষয়ে শীর্ষ আদালতে দ্বারস্থ হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি তল্লাশির পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, যে ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস না দিয়েই অভিযান চালানো হল কেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে হলফনামায়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে কলকাতায় একসঙ্গে দু’টি জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। একটি দল যায় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে, অন্য দলটি হানা দেয় লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা হওয়ায় এই অভিযান ঘিরে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
ইডির তল্লাশির খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে নথি, ফাইল ও ল্যাপটপ বার করে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেকের অফিসেও একই কাজ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ইডির আরও অভিযোগ, ওই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা তৎকালীন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা এবং দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি কমিশনার প্রিয়ব্রত রায় তদন্তে বাধা দিতে সহযোগিতা করেন।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। আদালত এক সপ্তাহ সময় দিয়ে আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছে। সেই শুনানিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার যুক্তির ভিত্তিতেই মামলার ভবিষ্যৎ দিশা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।