পোড়া গন্ধ আর কালো ধোঁয়ার মধ্যে ভোর নিউটাউনের ঘুনি বস্তিতে।
পকেট ফায়ার পুরোপুরি নেভাতে এখনও দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘুনি বস্তির বর্তমান অবস্থা
শেষ আপডেট: 18 December 2025 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউ টাউনের (New Town) ঘুনি বস্তিতে (Ghuni slum) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে একটা রাত, তবু আতঙ্ক কাটেনি। পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বস্তির একাধিক জায়গা বৃহস্পতিবার সকালেও জ্বলছে দাউ দাউ করে। মূল আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রয়ে গিয়েছে একের পর এক পকেট ফায়ার (Pocket Fire)। সেই আগুন পুরোপুরি নেভাতে এবং এলাকা ঠান্ডা করতে সকাল থেকেই দমকলের (Fire Brigade) পাঁচটি ইঞ্জিন লাগাতার কাজ করছে। চারদিকে এখনও কালো ধোঁয়া, পোড়া গন্ধ আর ধ্বংসস্তূপ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বুধবার সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ আচমকাই আগুন লাগে বস্তির একটি অংশে। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এলাকায় প্রচুর অস্থায়ী ঝুপড়ি ছিল। বাঁশ, ত্রিপল আর নানা দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন ভয়ংকর গতিতে ছড়িয়ে যায়। শুষ্ক আবহাওয়াও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। চোখের সামনে একের পর এক ঝুপড়ি দাউদাউ করে জ্বলতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ খালি হাতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী (Fire Services)। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় দমকলের ইঞ্জিনের সংখ্যা। শেষ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি ইঞ্জিন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজে নামে। দীর্ঘ সময় ধরে লাগাতার জল ঢেলে, আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকানোর চেষ্টা চলে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেই লড়াই। শেষমেশ আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়নি।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন নেভানোর পরও বস্তির একাধিক জায়গায় জ্বলছিল পকেট ফায়ার। সেই কারণেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবার পাঁচটি ইঞ্জিন এনে কুলিং ডাউন প্রসেস (Cooling Down Process) শুরু করা হয়। পোড়া টিন, বাঁশ আর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ভেতরে জমে থাকা উত্তাপ কমানোর কাজ চলছে। দমকল কর্মীরা জানাচ্ছেন, এই কাজ না হলে ফের আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
সকাল হতেই হাহাকার। বছর শেষের আনন্দ মাটি। যতদূর চোখ যায়, কালো ধোঁয়ার আস্তরণ। ছাইয়ের স্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে সর্বস্ব হারানোর যন্ত্রণা লুকোতে পারছেন না বাসিন্দারা। অনেকেই জানাচ্ছেন, তাঁদের সব কিছু পুড়ে শেষ। পোশাক, নথি, রান্নার জিনিস-কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
এই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনও দাহ্য বস্তুই আগুনের সূত্রপাত। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।