দুর্গাপুজোর মতোই এই পুজোও (Jagadhatri Puja 2025) চলে পাঁচ দিন ধরে। তবে যাঁরা চন্দননগর বা কৃষ্ণনগর যেতে পারেন না, তাঁরা কি এই উৎসবের আমেজ থেকে বঞ্চিত হবেন? মোটেই না। খাস কলকাতাতেই রয়েছে এমন অনেক বনেদি বাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজো, যেগুলির ইতিহাস শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে।

জগদ্ধাত্রী পুজো (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 30 October 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর (Chandannagar Jagaddhatri Puja) নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রঙিন আলোয় মোড়া রাস্তা, অপরূপ সাজে মাতৃপ্রতিমা আর সেই বিখ্যাত নিরঞ্জন শোভাযাত্রা। দুর্গাপুজোর মতোই এই পুজোও চলে পাঁচ দিন ধরে। তবে যাঁরা চন্দননগর বা কৃষ্ণনগর যেতে পারেন না, তাঁরা কি এই উৎসবের আমেজ থেকে বঞ্চিত হবেন? মোটেই না। খাস কলকাতাতেই রয়েছে এমন অনেক বনেদি বাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজো (Jagadhatri Puja 2025), যেগুলির ইতিহাস শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক শহরের কয়েকটি বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা।
চোরবাগান মৈত্র বাড়ির পুজো
প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাম। কথিত আছে, তিনিই এই বাড়ির নামকরণ করেছিলেন। একবার কোনও কারণ পুজো বন্ধ হয়ে যায়, এছাড়া প্রতিবছরই এখানে পুজোর আয়োজন করা হয়। এখানে মা জগদ্ধাত্রীর দু’পাশে জয়া ও বিজয়ার প্রতিমা থাকে, যা এই পুজোকে করে তোলে বিশেষ।
ছাতুবাবু ও লাটুবাবুর বাড়ির পুজো
দুর্গাপুজোর জন্য খ্যাত এই বনেদি বাড়িতেই প্রায় ২০০ বছর ধরে জগদ্ধাত্রীর আরাধনা (Jagaddhatri Puja) করা হয়। কাঠের সিংহাসনে বসানো অবস্থায় থাকেন প্রতিমা। তাঁকে পুজো করা হয় তান্ত্রিক মতে। পুজোর ভোগ দেওয়া হয় সম্পূর্ণ নিরামিষ।
কলেজ স্ট্রিটের মদন গোপাল দে বাড়ির পুজো
চন্দননগর থেকেই এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। পরে পরিবারের পৈতৃক ভিটে, কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে এসেও বজায় থাকে সেই ঐতিহ্য। প্রায় ১৩০ বছরের পুরনো এই পুজোয় আজও বৈষ্ণব রীতি মেনে মায়ের আরাধনা হয়। শোনা যায়, স্বপ্নাদেশ পেয়ে মদন গোপাল দে এই পুজো শুরু করেছিলেন। এখানেও আজও ধুনো পোড়ানোর প্রথা পালন করা হয়।
শোভাবাজারের বটকৃষ্ণ পালের বাড়ির পুজো
শিবপুর থেকে কলকাতায় এসে ওষুধের ব্যবসা শুরু করেছিলেন বটকৃষ্ণ পাল। সেই সময় থেকেই তাঁর বাড়িতে শুরু হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোয় তামার চালচিত্রে সোনা ও রূপোর প্রলেপ বিশেষ আকর্ষণ।
কলকাতার এই বনেদি বাড়িগুলির পুজো আজও বহন করে আসছে সেই ঐতিহ্যের ছোঁয়া, যা একসময় কেবল চন্দননগরের গলিতে অনুভূত হতো। তাই যারা বাইরে যেতে পারেন না, তারাও এই পুজোয় কলকাতার মধ্যেই খুঁজে পান জগদ্ধাত্রীর আলোকোজ্জ্বল মহিমা।