‘জগদ্ধাত্রী’ শব্দের অর্থই হল ‘যিনি জগৎকে ধারণ করেন’। তিনি সত্ত্বগুণের প্রতীক এবং অহংকার বিনাশ ও জগতের রক্ষা করতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পুরাণে বলা হয়েছে, মহিষাসুর বধের পর দেবতারা নিজেদের শক্তি নিয়ে গর্ব করতে শুরু করেছিলেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 October 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজো আর কালীপুজোর পরই বাংলায় শুরু হয় জগদ্ধাত্রী পুজোর (Jagadhatri Puja 2025) উৎসব। বিশেষত চন্দননগর (Chandannagar) ও কৃষ্ণনগরে (Krishnanagar) এই পুজো ঘিরে দেখা যায় ভক্তির আবহ ও আলোর ঝলকানি। চারদিনের পুজো হলেও বাংলার অধিকাংশ জায়গায় মূলত নবমীতেই হয় দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা (Jagadhatri Puja)। শাস্ত্র মতে, এই দিনে কিছু বিশেষ নিয়ম মানলে সংসারে আসে শান্তি, সম্পদ ও শুভফল। সেগুলি কী কী, জেনে নিন এই প্রতিবেদনে।
নবমীর দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে বাড়ি পরিষ্কার করে স্নান সেরে ফেলুন। তারপর শুদ্ধ বস্ত্র পরে নিন। এই দিনে উজ্জ্বল লাল বা হলুদ রঙের পোশাক পরা শুভ বলে মনে করা হয়। কালো বা সাদা পোশাক এই দিনে এড়িয়ে চলাই ভাল।
অনেক মহিলাই এদিন উপবাস (Jagadhatri Puja Fasting) করে থাকেন, আর উপবাস না করলে অন্তত নিরামিষ ভোজনই শ্রেয়। দেবীর পুজোর সময় নিজের সাধ্য অনুযায়ী সামগ্রী অর্পণ করুন। দেবীকে যদি শাড়ি নিবেদন করতে চান, তাহলে তা যেন লাল বা হলুদ রঙের হয়, সেকথা মাথায় রাখুন।
নবমীর বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী, জগদ্ধাত্রী পুজো শেষে আমলকি গাছ প্রদক্ষিণ করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস। বাড়িতে কন্যাসন্তান থাকলে এদিন তাকে উপহার দেওয়া এবং দরিদ্র মানুষকে দান করাও অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য হয়।
‘জগদ্ধাত্রী’ শব্দের অর্থই হল ‘যিনি জগৎকে ধারণ করেন’। তিনি সত্ত্বগুণের প্রতীক এবং অহংকার বিনাশ ও জগতের রক্ষা করতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পুরাণে বলা হয়েছে, মহিষাসুর বধের পর দেবতারা নিজেদের শক্তি নিয়ে গর্ব করতে শুরু করেছিলেন। তাঁদের এই অহংকার ভাঙতেই দেবী জগদ্ধাত্রী এক তৃণখণ্ডের মাধ্যমে তাঁদের শক্তির সীমা বুঝিয়ে দেন। দেবতারা তখন উপলব্ধি করেন যে, দেবীর শক্তিতেই তাঁদের অস্তিত্ব।
অন্য এক কাহিনিতে বলা হয়েছে, মহিষাসুর যখন হাতির রূপ নেয় (সংস্কৃতে ‘করী’), তখন দেবী, চতুর্ভুজা রূপে আবির্ভূতা হয়ে সেই অসুরকে বধ করেন। তাঁর বাহন সিংহ সেই মৃত হাতির উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাই দেবীর আরেক নাম ‘করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী’।
জগদ্ধাত্রী অহংকারের বিনাশ ও শুদ্ধতার প্রতীক। তাঁর পুজোয় মেনে চলা এই সহজ নিয়মগুলি শুধু ভক্তির প্রকাশই নয়, সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি ডেকে আনে বলেও বিশ্বাস করা হয়।
এই প্রতিবেদনটি জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেখা। এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাও থাকতে পারে।