বিধাননগর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে যুবকের পরিবার। মামলা দায়ের হয়েছে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 August 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির ছেলেকে রাস্তায় ফেলে মারার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে! এই ইস্যুতে বিধাননগর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে যুবকের পরিবার। মামলা দায়ের হয়েছে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। বৃহস্পতিবারই দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে।
সৌরীন্দ্র নারায়ণ রায় নামের যুবক এই অভিযোগ করেছেন। তিনি নিজেও আইনজীবী। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের মামলার রুজু হয়েছে। আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী। মামলা দায়েরের অনুমোদন মিলেছে এবং আজই শুনানি হওয়ার কথা।
সল্টলেকের এই ঘটনায় গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী (Senior Advocate) মনুজেন্দ্র নারায়ণ রায়, প্রাক্তন বিচারপতি রণেন্দ্র নারায়ণ রায়ের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের হঠাৎ হামলায় তাঁর বাঁ দিকের পেলভিক হাড়ে (Pelvic Bone Fracture) চিড় ধরা পড়েছে। বর্তমানে তিনি সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাঁর অস্ত্রোপচার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ২০ আগস্ট রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ, সল্টলেকের এ কে ব্লকে (AK Block, Salt Lake)। এ ব্যাপারে মনুজেন্দ্রবাবুর ছেলে সৌরীন্দ্র নারায়ণ রায় সরাসরি হোম সেক্রেটারি, পুলিশ কমিশনার ও বিধাননগর ইস্ট থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
অভিযোগে সৌরীন্দ্র জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে তাঁর বাবা বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দেন বাড়ির গাড়ি (Car, WB08G2063) আনতে, যা সামনের পার্কের পাশে রাখা ছিল। গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ দুই ব্যক্তি, যারা সাদা পোশাকে ছিলেন, তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তাঁরা নিজেদের পরিচয় দেননি, বরং অকারণে ভয় দেখিয়ে হঠাৎ আক্রমণ শুরু করেন।
সৌরীন্দ্রর দাবি, তাঁকে ঘুষি মারা হয়, গলা চেপে ধরা হয় এবং ভয় দেখানো হয় যে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে। অভিযোগ, এরপরই আরও একজন পুলিশকর্মী - তুষার চন্দ্র কুমার (ASI Tushar Chandra Kumar) এসে তাঁকে মাটিতে ফেলে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকেন।
এই সময় সৌরীন্দ্র বাবাকে ফোনে খবর দেন। মনুজেন্দ্রবাবু ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন। অভিযোগ, তাঁকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে গুরুতর চোট পান।