
শেষ আপডেট: 12 December 2023 21:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিষেধ ছিল বিকাশ ভবনের। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুরও সম্মতি মেলেনি। তা সত্ত্বেও মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসল সিন্ডিকেট বৈঠক। আর এই নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে শুরু হয় বিতর্ক। বিক্ষোভে সামিল হয় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
রাজ্যপাল নিযুক্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত আগেই জানিয়েছিলেন যে ১২ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট মিটিং ডাকা হয়েছে। অনুমতি দেন রাজ্যপাল তথা আচার্য সিভি আনন্দ বোস। সেই মতো উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছেও অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু সোমবার শিক্ষা দফতরের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্থায়ী উপাচার্য় না থাকায় বৈঠক হওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আগেই বলেছে স্থায়ী উপাচার্য ছাড়া কোনও বৈঠক বা কনভোকেশন বিশ্ববিদ্যালয় ডাকতে পারে না। সেই কথাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।” তা সত্ত্বেও কীভাবে তারা বৈঠক ডাকতে পারে? তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কিন্তু শিক্ষা দফতরের অসম্মতি সত্ত্বেও মঙ্গলবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সহ অন্যান্যরা সিন্ডিকেটের বৈঠকে বসেন।
এদিকে নিষেধ অগ্রাহ্য করে সিন্ডিকেট বসায় এদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙা বিল্ডিংয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকতেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। উল্লেখ্য এদিন সিন্ডিকেটের বৈঠক চলাকালীন সেখানে ঢোকেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। আর এনিয়েও অভিযোগ তোলেন শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য–রাজ্যপাল সংঘাত চলছে। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছে। এরই মধ্যে রাজভবন থেকে নির্দেশ এসেছে, মামলার সমস্ত খরচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেই বহন করতে হবে। যদিও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। অন্যদিকে, বেশ অনেকদিন ধরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য় নেই। মাসখানেক আগে সিন্ডিকেট বৈঠক ডাকতে চেয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেক্ষেত্রে একইভাবে অনুমতি দেয়নি শিক্ষা দফতর। পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কেও কর্মসমিতির বৈঠকে অনুমতি দেয়নি শিক্ষা দফতর।