
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 April 2025 22:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ আইন নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া অশান্তির আঁচ দাবানলের রূপ নিচ্ছে। প্রথমে শুরু হয়েছিল জঙ্গিপুরে, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে মুর্শিদাবাদের সুতি ও সামশেরগঞ্জ, মালদহ ও হুগলির নানা প্রান্তে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি কার্যত বারুদের স্তুপে পরিণত হয়। যার ফল শুক্রবার ও শনিবার দেখেছে সকলে।
এই পরিস্থিতি নিয়েই সরব হয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ পুরোপুরি ব্যর্থ অশান্তি রুখতে ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে। পরিস্থিতির অবনতির জেরে হস্তক্ষেপ চেয়ে শনিবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন তিনি। সেই আবেদন গ্রহণ করেন বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। তড়িঘড়ি শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। শুনানিতে হাইকোর্টের এই ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়।
এদিন সন্ধ্যায় হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে অংশ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'এই মুহূর্তে রাজ্যের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেই। কেন্দ্রীয় বাহিনীই এমন জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। কাশ্মীর, শ্রীনগরের মতো জায়গায়ও তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।' তিনি রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, 'গত কয়েক দিন ধরেই বলে আসছি, রাজ্য পুলিশের হাতে কিছু নেই। গাড়িতে আগুন লাগানো হচ্ছে, ভাঙচুর চলছে, পুলিশের বহু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতি আর চলতে পারে না।'
শুভেন্দুর দাবি, সামশেরগঞ্জে অশান্তির মাঝে এক বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। আজ তাঁদের দেহ উদ্ধার করেছে বিএসএফ।
তবে এই বিচ্ছিন্ন হিংসার নেপথ্যে কারা? বিজেপি নেতার দাবি, কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী—যেমন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম—এই এলাকাগুলিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কিছু অঞ্চলে এসব জঙ্গি সংগঠন প্রভাব বিস্তার করছে, যার ফলেই পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়েছে।