কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, হেয়ার স্ট্রিট থানায় একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

বিএলও-দের বিক্ষোভ
শেষ আপডেট: 23 December 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে (Kolkata CEO Office) ঢোকার চেষ্টা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শহরে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল লালবাজার। কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) তরফে জানানো হয়েছে, হেয়ার স্ট্রিট থানায় একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ (SIR West Bengal)।
সোমবার বিবাদী বাগে সিইও দফতরের (CEO West Bengal) সামনে বিক্ষোভে সামিল হন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। অভিযোগ, পুলিশের ব্যারিকেড টপকে দফতরের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় অন্তত একজনকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারী বিএলওদের দাবি, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে বারবার পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার ফলে একদিকে যেমন মানসিক চাপ বাড়ছে, তেমনই অন্যদিকে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, একের পর এক নির্দেশিকা জারি হলেও তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না। পাশাপাশি খসড়া ভোটার তালিকায় একাধিক ভুল ধরা পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বিএলওদের আরও অভিযোগ, এই সমস্যাগুলি নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার জন্য বারবার সময় চাওয়া হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। সোমবার ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’-র তরফে সিইও দফতরে গিয়ে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সময় না পাওয়ায় ক্ষোভ চরমে ওঠে। তার পরেই পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দফতরের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিও হয় বলে অভিযোগ।
কলকাতা পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং আইন ভাঙার অভিযোগে পুলিশের তরফেই মামলা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও শোরগোল পড়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে লালবাজার।
বেশ কিছু দিন ধরেই সিইও দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছে তৃণমূলপন্থী ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগেই নির্বাচন কমিশনের তরফে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর চত্বর-সহ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দফতরের আধিকারিকেরা কোথাও গেলে তাঁদের সঙ্গেও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কথা। তার পরেও ফের এই বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।