
ভবানী ভবনের সামনে ধর্নায় সুকান্তরা - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 16 April 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় (Waqf Protest) অশান্তির জেরে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহু মানুষ এখনও ঘরছাড়া। প্রাণ বাঁচিয়ে কেউ চলে এসেছেন পড়শি জেলায়, আবার কেউ রাজ্য ছেড়েছেন। পুলিশের দাবি ছিল, অনেক ঘরছাড়া পুনরায় বাড়িতে ফিরেছেন। তবে বিজেপি এমনটা মানতে রাজি নয়। বরং তাঁরা বুধবার বেশ কয়েকজন ঘরছাড়াকে নিয়ে ভবানী ভবনে (Bhabani Bhawan) গেছে। দাবি, ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ। সেটা চেয়েই ধর্না শুরু করেছেন সুকান্ত মজুমদাররা।
গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ। জেলায় কার্যত তাণ্ডব চলেছে। ঘর-বাড়ি, দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি খুনের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার ভবানী ভবনে মুর্শিদাবাদের কয়েকজন ঘরছাড়াকে সঙ্গে নিয়ে ভবানী ভবন যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সহ বিজেপি একাধিক নেতারা। তাঁদের দাবি, রাজ্যে ডিজিকে ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলতে হবে, তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনতে হবে।
সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শনে গেছিলেন রাজ্যের ডিজিপি। কিন্তু ঘরছাড়া হোক কিংবা আক্রান্তদের পরিবার, কারও সঙ্গেই দেখা করে কথা বলেননি তিনি। তাই বুধবার ঘরছাড়াদের নিয়েই তাঁরা ভবানী ভবন অভিযান করেছেন বলে জানান। তাঁরা চান, ডিজি আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলুন। কারণ পীড়িতরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের কথা তাঁকে জানাবেন বলে।
ভবানী ভবনের সামনে দাঁড়িয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের মহিলারা নিরাপদ নন। মুর্শিদাবাদে তাঁদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা তো হয়েছেই, ভয় দেখানো হয়েছে প্রাণে মেরে ফেলার। শুধু এটুকুই নয়, হিন্দু মহিলাদের সংখ্যালঘুদের তরফে নোংরা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সুকান্তর কথায়, রাজ্য সরকার পুরো বিষয়টি সম্পর্ক অবগত হলেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে পুলিশও নিষ্ক্রিয়।
মুর্শিদাবাদে ধর্মান্তকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। আর এক্ষেত্রে কলকাতা মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। বলেন, কয়েক মাস আগে ফিরহাদ হাকিম সংখ্যালঘুদের যে বার্তা দিয়েছিলেন, তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ঘটনা ঘটেছে কিনা, তিনি জানেন না! বিজেপি সাংসদের স্পষ্ট কথা, বাংলায় যা চলছে তা অভাবনীয় এবং ভয়ঙ্কর। বুধবার সকালেও মুর্শিদাবাদে অশান্তি হয়েছে এবং দোকান জ্বালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।