
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 March 2025 11:19
যোগা সেন্টারের (Yoga Centre) অবস্থা খারাপ। তার জন্য কাজ চলছিল। কিন্তু আচমকা স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councillor) এসে সেই কাজ বন্ধ করান এবং যোগা সেন্টার বন্ধ করে চাবি নিয়ে চলে যান! উঠেছে এমনই অভিযোগ। সেই প্রেক্ষিতে বিধাননগর থানায় (Bidhannagar) অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে পাল্টা ওই কাউন্সিলরের দাবি, যারা অভিযোগ করেছে তারাই বেআইনি কাজ করেছে।
বিধাননগরের এফডি গ্রাউন্ডের পূর্ব কোণে একটি যোগা সেন্টার রয়েছে। সেখানেই মেরামতির কাজ চলছিল। কিন্তু অভিযোগ, কাজ চলাকালীন সেখানে এসে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রমিকদের বের করে দেন। তারপর যোগা সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে চাবি নিয়েও চলে যান। এফডি ব্লক অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বিধাননগর থানায় এই অভিযোগই দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কোনও নোটিস ছাড়াই এই কাজ করেছেন কাউন্সিলর। এটা বেআইনি।
অভিযোগকারী অ্যাসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য। তিনি দ্য ওয়াল-কে জানিয়েছেন, তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁদের সঙ্গে প্রথমে ভালই ব্যবহার করতেন। সবার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল। পুজোর প্রেসিডেন্টও ছিলেন। কিন্তু গত নভেম্বর মাসের পর থেকেই তাঁর আচরণ বদলে যায়। অভিযোগকারীর কথায়, ''এফডি অ্যাসোসিয়েশনে প্রত্যেক ২ বছর অন্তর নির্বাচন হয়। গত নভেম্বরে সেই নির্বাচনের সময়ে কাউন্সিলর বলেছিলেন তাঁর ইচ্ছে মতো অ্যাসোসিয়েশন চলবে। তার জন্য একজনের নামও সেক্রেটারি হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু আমরা রাজি হইনি। পরে ভোটের সময়ে তাঁর প্যানেলে দেওয়া সব প্রার্থী বিশ্রীভাবে হেরে যায়। তারপর থেকে কাউন্সিলর আর অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে আসতেন না। তখন থেকেই দ্বন্দ্ব শুরু।''
রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু ওই ভোটের সময়ে ইস্তেহারে লিখেছিলেন যোগা সেন্টার করে দেওয়ার কথা, এমনটাই জানিয়েছেন অভিযোগকারী। বলেছেন, ''সুজিত বসু উদ্যোগ নেওয়ার পরই কাউন্সিলরই যোগা সেন্টার তৈরি করে দেন। কিন্তু নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কাজে বাধাও দিতে শুরু করেন তিনি। আমাদের মনে হয়, বাণীব্রতবাবু যোগা সেন্টার দখল করার চেষ্টা করছেন। সেখানে কোনও বসার জায়গা বা অফিস করার চেষ্টা হয়তো তাঁর রয়েছে।'' তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিধাননগরের মেয়রের সঙ্গেও কথা বলতে গেছিলেন তাঁরা। কিন্তু তিনি তাঁদের চিঠি নেননি। পাল্টা বলেছেন, কোনও ইস্যুতে কাউন্সিলরেরই মারফৎ আসতে হবে। চিঠি পোস্ট করে দেওয়া হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।
অভিযোগকারী দ্য ওয়াল-কে স্পষ্ট বলেছেন, ''সম্প্রতি মিউনিসিপালিটি থেকে তাঁদের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। হয়তো তাঁদের কাছে কোনও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল যে আমরা যোগা সেন্টার ভাড়া দিই। কিন্তু এমন কিছুই করা হয় না। তবে বলা হয়েছিল, ভাড়া দিলে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু এমন কিছুই বলা হয়নি যে মেরামত করা যাবে না বা যোগা সেন্টার তাঁরা দখল করছেন। তাই আমরাই খরচ করে যোগা সেন্টারের মেরামতির কাজ শুরু করেছিলাম।''
মেরামতির কাজ শুরু হওয়ার পরই তৃণমূল কাউন্সিলর বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে বাধা দিয়েছেন এবং যোগা সেন্টার বন্ধ করে চাবি নিয়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ। কোনও নোটিস ছাড়া কীভাবে সরকারি সম্পত্তিতে তালা দিয়ে দিলেন কাউন্সিলর, সেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারই অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে সেই বৈঠকে।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই তৃণমূল কাউন্সিলর বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Banibrata Banerjee) সঙ্গেও কথা বলেছিল দ্য ওয়াল। তিনি পাল্টা দোষ চাপিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেই। তাঁর সাফ বক্তব্য, ''২০১৪ সালে আমি কাউন্সিলর থাকাকালীন কাউন্সিলর ফান্ড থেকে যোগা সেন্টার তৈরি হয়েছিল। ওটা পুরসভার যোগা সেন্টার। এখন হঠাৎ করে দেখা গেল যোগা সেন্টারের মেঝে ভেঙে ফেলা হয়েছে, তার ফেন্সিং কেটে ফেলা হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হলে কাউন্সিলর হস্তক্ষেপ করবে।'' অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারির দিকেই মূলত অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কাউন্সিলর স্পষ্ট বলেছেন, ''যোগা সেন্টারে কোনও কাজের অনুমতি নেই। তাঁদের কোনও কিছু জানানোও হয়নি। পুলিশ কিছু জানতে চাইলে আমি সহযোগিতা করব। তবে এর দায় পুরসভার। আমার তো দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপার নেই।'' তাঁর বিরুদ্ধে সেন্টার বন্ধ করে চাবি নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ তাও নস্যাৎ করেছেন কাউন্সিলর। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ''এমন কিছু ঘটলে কাউন্সিলরই কাজ বন্ধ করবে। আর ওদের কাছে তো চাবি থাকারই কথা নয়। তাহলে চাবি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলে কী করে? বরং কোনও চাবি থাকলে ওদের কাছ থেকে বারবার চাওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়নি। আগেও পুরসভা থেকে চিঠি গেছে তাঁদের কাছে। পাত্তাই দেয়নি।''
বাণীব্রত জানাচ্ছেন, পুরসভার সম্পত্তিতে শুধুমাত্র কমিউনিটি হল নির্মাণ করা যায়, সেটাও অনুমতি নিয়ে প্ল্যান করাতে লাগে। বাকি কিছু নির্মাণ হলে তা অবৈধ। এখন যোগা সেন্টারকে তাঁরা যদি নিজেদের সম্পত্তি বলে তাহলে তা প্রমাণ করতে হবে। আর যদি সেটা না হয় তাহলে কোনও কাজ করতে গেলে যার সম্পত্তি তার থেকে অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে তাঁরাই তো বৈআইনি কাজ করছে। তাহলে এফআইআর-ও তাদের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত।