
শেষ আপডেট: 25 November 2023 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিখোঁজ হওয়ার দিনদুয়েক পর উদ্ধার হল বাংলার কলেজ ছাত্রের দেহ। শনিবার সকালে ওড়িশার কেওনঝড় থেকে তারাশংকর সরকারের দেহ উদ্ধার হয়েছে। দুঃসংবাদ পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে আরামবাগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যানার্জি পাড়ার বাড়িতে। সন্তানকে হারিয়ে হাহাকার পরিবারে।
গত মঙ্গলবার আশুতোষ কলেজের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ৩৮ জন ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে ওড়িশার কেওনঝড় ও বারবিলে শিক্ষামূলক ভ্রমণে রওনা হন অধ্যাপকরা। বৃহস্পতিবার তাঁদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু, বারবিল থেকে কিছুটা দূরে একটি নদী এবং জলপ্রপাত দেখার জন্য নামেন পড়ুয়ারা। সেই জলপ্রপাত দেখার সময় দুপুর ১২টা নাগাদ ঘটে দুর্ঘটনাটি। ঝরনাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে সেলফি তোলার চেষ্টা করছিলেন দুই ছাত্র। তখনই ঝরনার জলে পা পিছলে পড়ে যান ওই দুই পড়ুয়া। ওড়িশার কেওনঝড়ের ঝরনায় পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হন তারাশংকর সরকার। তাঁর সঙ্গে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান নীলাব্জ নামে আরও এক ছাত্র। একটি পাথরে আটকে কোনওমতে বেঁচে যান তিনি।
এরপরেই পুলিশ, দমকল এবং বন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শুরু হয় সার্চ অপারেশনও। হুগলির আরামবাগের বাসিন্দা তারাশঙ্কর পড়াশোনার জন্য সল্টলেকে থাকতেন। মৃত ছাত্র একজন ইউটিউবারও ছিলেন। আর সেই জন্য ছবি ভিডিয়ো সংগ্রহ করতে গিয়েই কি বিপত্তি আরও বাড়ল? উঠেছে সেই প্রশ্নও।
দুর্ঘটনার পর থেকেই উদ্ধারকাজ চলছিল। শেষমেশ প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের ছেলের দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে। এই ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং অধ্যাপকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। শিক্ষামূলক ভ্রমণে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল? কেন ওই পড়ুয়াদের আগাম সতর্ক করা বা কড়া কোনও পদক্ষেপ করা হল না! তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আগামীদিনে শিক্ষামূলক ভ্রমণে মোবাইল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা করছে আশুতোষ কলেজ কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, আশুতোষ কলেজ কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করার কথা ভাবছে। এক্সকারশনে মোবাইল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ব্যবহার সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকবে এই গাইডলাইনে।