২০২২ সালের ২২ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee)। প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পরেই গ্রেফতার হয়েছিলেন অর্পিতা। গত বছর সেই গ্রেফতারির ৮৫৭ দিন পর জামিনে ছাড়া (Bail) পেয়েছিলেন তিনি। যদিও পার্থের জামিন মামলা এখনও ঝুলছে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 18 May 2025 20:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২২ সালের ২২ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee)। প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পরেই গ্রেফতার হয়েছিলেন অর্পিতা। গত বছর সেই গ্রেফতারির ৮৫৭ দিন পর জামিনে ছাড়া (Bail) পেয়েছিলেন তিনি। যদিও পার্থের জামিন মামলা এখনও ঝুলছে।
ভিডিওটি দেখুন এই লিঙ্কে
এখন ঘটনা হল, টালিগঞ্জের যে ফ্ল্যাট থেকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধার হয়েছিল, সেই ফ্ল্যাটেরই নাকি সংস্কারের কাজ শুরু করছেন অর্পিতা। আর এই খবর টের পেয়েই অনেকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, শিক্ষায় দুর্নীতির কারণে প্রায় ২৬ হাজার চাকরিহারা যখন রাস্তায় এসে পড়েছেন, তখন সেই শিক্ষা দুর্নীতিতে জেলে যাওয়া অর্পিতা ফ্ল্যাট সংস্কারের কাজ করছেন! সেই টাকার উৎস কী?
বস্তুত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএসসির সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হয়ে গিয়েছে। চাকরি গিয়েছে ২৫ হাজার ৭৩৫ জনের। তাঁদের মধ্যে যে শিক্ষকেরা ‘দাগি’ (টেন্টেড) নন, তাঁদের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাঁরা বেতনও পাবেন। তবে নতুন করে তাঁদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে হবে। এর প্রতিবাদেই বিক্ষোভ চলছে।
বৃহস্পতিবার টানা অবস্থানের পর সাত দফা দাবিতে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন চাকরিহারা 'যোগ্য' শিক্ষকরা। তারপর থেকে লাগাতার অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতিতে জেল থেকে ছাড়া পাওয়া অর্পিতার ফ্ল্যাটের সংস্কারের কাজ শুরু হতেই চর্চা শুরু হয়েছে।
অর্পিতার টালিগঞ্জের এই ফ্ল্যাটের পাশাপাশি বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটেও ইডি হানা দিয়েছিল। টালিগঞ্জের আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা এবং প্রচুর বিদেশি মুদ্রা ও সোনার গয়না উদ্ধার হয়। এর পরে ওই বছরেরই ২৭ জুলাই বেলঘরিয়ার একটি আবাসনে অর্পিতার নামে থাকা দু'টি ফ্ল্যাট থেকেও মোট ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা নগদে উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সঙ্গে প্রচুর গয়নাও। ইডি জানিয়েছিল, অর্পিতার দু'টি ফ্ল্যাট থেকে নগদ মোট ৪৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ৫ কোটি ৮ লাখ টাকার গয়না উদ্ধার হয়েছিল।
শুধু অর্পিতার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার হওয়ায় অনেকেই মনে করেছিলেন, নিয়োগ মামলায় তাঁর জামিন পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু দেখা যায়, পার্থের আগে অর্পিতারই জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
চলতি বছরের ফেব্রিয়ারিতেই পার্থের বান্ধবী অর্পিতা তাঁর মা-বাবার পারিবারিক পেনশনের টাকা জমার উপায়ের খোঁজে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর বাবা, মা দু’জনেই প্রয়াত। দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী ছিলেন। তাই পারিবারিক পেনশনের জন্য আবেদন করেছিলেন অর্পিতা।
কেন্দ্রীয় সরকার অর্পিতাকে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য নির্দেশ দেয়। কিন্তু যেহেতু অর্পিতার সব ক'টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই ইডি বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে তাই একটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অন্তত খুলতে দেওয়া হোক, সেই আবেদনও করেন। যদিও তাঁর পারিবারিক একটি সম্পত্তি রয়েছে বটে, যা ইডি বাজেয়াপ্ত করেনি। সেখানেই আবার চুরি যাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন পার্থঘনিষ্ঠ অর্পিতা।
এসব ডামাডোলের মধ্যে অর্পিতার ফ্ল্যাট সংস্কারের খরচের উৎস কি আবার তদন্তের স্ক্যানারে আসতে পারে? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বিভিন্ন মহলে।