
শেষ আপডেট: 6 October 2023 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুকের হাড় না কেটে হার্ট (Heart Surgery) সার্জারি এ দেশে এখন বেশ সফল। তবে রোবোটিক আর্ম বা যান্ত্রিক হাত ব্যবহার করে এই ধরনের জটিল অস্ট্রোপচারের খুব একটা প্রচার হয়নি আমাদের দেশে। সেখানেই নজির করেছে অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল। ২০২২ সালেই অন্তত ৩০০ টি রোবোটিক সার্জারি হয়েছে অ্যাপোলোতে। শুধু হার্ট অপারেশন নয়, কিডনি, প্রস্টেট-সহ জটিল রোগের অপারেশনও হচ্ছে রোবোটিক সিস্টেমে।
ইদানীংকালে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতিতে হার্ট বা অন্যান্য সার্জারি আর জটিল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া নয়। আধুনিক পদ্ধতিতে অনেক দ্রুত অস্ত্রোপচার সম্ভব। বেশি যন্ত্রণাও সইতে হয় না। পোস্ট সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের পরে খুব কমদিনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাও সম্ভব। ‘মিনিমালি ইনভ্যাসিভ সার্জারি’ এমনই এক উন্নত পদ্ধতি। এই ধরনের সার্জারি রোবোটিক্সের সাহায্যেও করা যায়। অ্যাপোলো হসপিটাল দ্য ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেমে খুব দ্রুত ও যন্ত্রণাহীন সার্জারি করছে।
হার্টের রোগের অনেক ধরন। যেমন করোনারি হৃদরোগ, কার্ডিও মায়োপ্যাথি, হার্ট ফেলিওর, উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগ, ভালভুলার ডিজিজ, হৃদপিণ্ডের ডান পাশ অচল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হার্টের রোগের মধ্যে পড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি যে রোগের অস্ত্রোপচার হয় তা হল ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ বা করোনারি হার্ট ডিজিজ। যে কোনও হার্টের রোগের অস্ত্রোপচার মানেই জটিল পদ্ধতি। সময় বেশি লাগে, ঝুঁকি থাকেও। অ্যাপোলোর ডাক্তারবাবুরা বলছেন, এখন এমন ধরনের অস্ত্রোপচারের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে যাতে সময় কম লাগে এবং সার্জারি পরবর্তী পর্যায়ে রোগীর যন্ত্রণাও কম হয়।
মিনিমাল ইনভ্যাসিভ সার্জারির সুবিধা হল এটি রোবোটিক আর্ম ব্যবহার করেও করা যায়। ছোট ভিডিও ক্যামেরা পাঁজরের মধ্যে দিয়ে হার্টের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া যায়। এই ভিডিও ক্যামেরায় হার্টের অবস্থা ভালভাবে দেখেশুনে অস্ত্রোপচার করা হয়। রোবোটিক আর্মের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা আছে। সুবিধা হল, রোবোটিক টুলের ভিডিও ক্যামেরায় হার্টের থ্রি-ডি ইমেজ ভিডিও মনিটর করা যায়। আধুনিক হার্ট সার্জারির এটা একটা বিশেষ দিক।
তেমনই অন্য সার্জারির ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে রোবোটিক সিস্টেমকে কাজে লাগাচ্ছেন ডাক্তারবাবুরা। সম্প্রতি অ্যাপোলোর ইউরো-অনকোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. তরুণ জিন্দাল প্রস্টেট ক্যানসারের অপারেশন করেছে রোবোটিট পদ্ধতিতে। সেই অপারেশন সফল তো হয়েছেই, রোগীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।
ওপেন হার্ট সার্জারির থেকে এই সার্জারি অনেকটাই নিরাপদ। ওপেন হার্ট মানেই ‘ব্রেস্টবোন ক্র্যাকিং’ অর্থাৎ বুকের হাড় মাঝখান থেকে কাটতে হয়। এই প্রক্রিয়া যেমন সময়সাপেক্ষ তেমনি পোস্ট সার্জরি পর্যায়ে রোগীর সেরে উঠতেও অনেক বেশিদিন সময় লাগে। আর বুকের হাড় কাটতে হবে শুনলেই আতঙ্ক শুরু হয় রোগীদের। মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারিতে সেই সমস্যা নেই। আর এটা তো ঠিকই যে, বুকের হাড় কাটাছেঁড়া মানে তার আফটার এফেক্টস বা প্রতিক্রিয়াও বেশি হয়। এই ধরনের হার্ট সার্জারিতে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া, কমবয়সিদের ক্ষেত্রে বুকের হাড় কেটে সার্জারি করলে তার একটি চিহ্ন থেকে যায়। বাইরে থেকে সার্জারির দাগ বোঝা যায়, যা দেখতে ভাল লাগে না। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্রেস্টবোন ক্র্যাকিং মানে শরীর আরও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়া। এই ক্ষত সারতেও সময় লাগে। সেদিক থেকে মিনিমাল ইনভ্যাসিভ সার্জারি অনেক বেশি এগিয়ে।