আগুন লাগার সময় কারখানার ভেতরে নাইট ডিউটিতে ছিলেন তিন কর্মী। তাঁদের কারও সঙ্গে সকাল পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়নি। একজনের ফোন বেজে গেলেও ধরছেন না।
.jpg.webp)
আনন্দপুরের মোমো কারখানায় আগুন
শেষ আপডেট: 26 January 2026 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার আনন্দপুরের মোমো তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Anandapur Fire Incident) ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগার ঘটনায় এখনও নিখোঁজ ছয় কর্মীর কোনও হদিস নেই। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন সকাল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও তীব্রতার কারণে মূল উৎসস্থলে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারখানার ভিতরেই ছয় কর্মীরই ঝলসে মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত দেড়টা নাগাদ কারখানার (Momo Factory in Anandapur) ভিতর থেকে হঠাৎ আগুনের শিখা দেখা যায়। সেখানে নিয়মিত মোমো তৈরি হয়, ফলে প্রচুর পাম তেল, প্যাকেটজাত দাহ্য সামগ্রী, আর একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুত ছিল। ফলে আগুন লাগতেই দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় পরিস্থিতি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধোঁয়া দেখে প্রথমেই তাঁরা দমকলে খবর দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও আগুনের তীব্রতায় ভিতরে ঢোকাই সম্ভব হয়নি। সকাল হতেই কিছুটা আগুন কমলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এখনও।
দমকল সূত্রে খবর, আগুন লাগার সময় কারখানার ভেতরে নাইট ডিউটিতে ছিলেন তিন কর্মী। তাঁদের কারও সঙ্গে সকাল পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়নি। একজনের ফোন বেজে গেলেও ধরছেন না। তাঁরা ভেতরে আটকে আছেন নাকি বেরোতে পেরেছেন- তা নিশ্চিত নয়। এক কর্মীর আত্মীয় জানান, “রাতে ফোন করে বলেছিল ধোঁয়ায় দমবন্ধ লাগছে। আমি বাঁচব না মনে হয়। তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ নেই।” সেটাই ছিল শেষ ফোন। তারপর থেকেই পরিবারের আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছে।
মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার এক কর্মী জানান, কারখানার ঠিক পাশে একটি ডেকরেটার্স সংস্থার প্রচুর দাহ্য সরঞ্জাম রাখা হত। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা সরায়নি। তাঁর দাবি, “এত দাহ্য জিনিসের পাশে এগুলো রাখা একেবারেই ঠিক ছিল না। বিপদ হওয়ার আগেই বলা হয়েছিল। কিন্তু কথা শোনেনি কেউ।”
তিনি জানান, আগুন লাগার সময় ভেতরের তিন কর্মীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। তাঁরা ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও কর্মীদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কারখানায় আগেও ছোটখাটো আগুন লেগেছিল। অভিযোগ, একাধিকবার সতর্ক করা হলেও মালিকপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁদের দাবি, “এত লোক থাকি এখানে, বারবার বলেছি। কেউ শুনল না। আজ এমন বড় দুর্ঘটনা হয়ে গেল।”
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানাননি তদন্তকারীরা। দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে আগুনের উৎসস্থল ও বিস্ফোরণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। নিখোঁজ তিন কর্মীর অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। যতক্ষণ না দমকল আগুনের কেন্দ্রে পৌঁছতে পারছে, ততক্ষণ তাঁদের সন্ধান পাওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন সবাই।