বিজেপির ওই মিছিলে দলের বহু নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানার নিয়ে সখেরবাজার সংলগ্ন এলাকায় মিছিল ঘোরে। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এপ্রিল মাসে বদল হবে, বদলাও হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 26 January 2026 19:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেহালার সখেরবাজার (Behala Sakherbazar) এলাকায় বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবের সভাকে (BJP Sabha) কেন্দ্র করে যে অশান্তি ছড়িয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বিজেপি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই এলাকাতেই হাজির হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু ঘটনাস্থল পরিদর্শন নয়, সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপির তরফে আয়োজন করা হয় একটি প্রতিবাদ মিছিল ও সভার, যেখানে নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু নিজেই। মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি ‘বদলা’র বার্তা দেন।
বিজেপির ওই মিছিলে (BJP Rally At Sakherbazar) দলের বহু নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানার নিয়ে সখেরবাজার সংলগ্ন এলাকায় মিছিল ঘোরে। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এপ্রিল মাসে বদল হবে, বদলাও হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুভেন্দুর অভিযোগ, এই মুহূর্তে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর (TMC Councillor), স্থানীয় নেতানেত্রী এবং পুলিশের (WBP) এক ধরনের ‘যৌথ টিম’ কাজ করছে। তাঁর দাবি, কোনও ঘটনায় তৃণমূলের কেউ জড়িত থাকলে পুলিশ অভিযোগ নিতে চায় না। বিরোধী দলনেতার কটাক্ষ, পুলিশের উপর রাজনৈতিক চাপ এতটাই বেড়েছে যে তারা কার্যত দলদাসে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, বিজেপি শান্তিপূর্ণভাবে সভা বা কর্মসূচি করতে গেলেই পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
রবিবার বেহালার সখেরবাজারে বিপ্লব দেবের সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় পতাকা লাগানোকে ঘিরে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সভার প্রস্তুতির সময় বিজেপি কর্মীরা এলাকায় দলীয় পতাকা লাগাতে গেলে তাতে বাধা দেন তৃণমূল সমর্থকেরা। তা থেকেই বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে কিছু সময়ের জন্য ডায়মন্ড হারবার রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর অভিযোগ ওঠে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের। ঘটনাস্থলের কাছেই তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অফিস রয়েছে। সংঘর্ষের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা ওই অফিসে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, বিপ্লব দেবের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর তৃণমূল কর্মীরাই সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে মঞ্চ দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে আসে। খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে এলাকায় যান তৃণমূলের দুই বিধায়ক দেবাশিস কুমার ও রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।