শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে শহরের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সুরক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 12 July 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার শিল্প-ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক, কুমোরটুলির ঘাট এবার নতুন রূপে সেজে উঠতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক ঘাটকে পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যায়নের উদ্দেশ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ (SMPK) এবং আদানি গোষ্ঠীর মধ্যে স্বাক্ষরিত হল চুক্তি।
এই যৌথ উদ্যোগে শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে শহরের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সুরক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও।
SMPK-র চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রামন বলেন, “এটি শুধু একটা সংস্কার প্রকল্প নয়, এটি বাংলার শিল্পঐতিহ্যকে পুনর্জীবন দেওয়ার একটি প্রয়াস।”
হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত কুমোরটুলিকে চেনে না এমন শহরবাসী নেই। মৃৎশিল্পীদের এই কলোনি বহু প্রজন্ম ধরে দুর্গা প্রতিমা ও অন্যান্য মূর্তি তৈরির কেন্দ্রস্থল। দেশ-বিদেশে কুমোরটুলির খ্যাতি ছড়িয়ে রয়েছে তার শিল্পসৌন্দর্যের জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাট অবহেলার শিকার - নদীতীর ক্ষয়, আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং পরিকাঠামোর দুর্বলতা ক্রমশ একে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, ঘাটটির পুনরায় উন্নয়ন, সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের দায়িত্ব নেবে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন লিমিটেড (Adani Ports and Special Economic Zone Ltd - APSEZ)। পরিবেশ-বান্ধব এবং সাংস্কৃতিক উপযোগিতাকে সম্মান জানিয়ে এই প্রকল্পটি শুরু হতে চলেছে।
APSEZ-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রেসিডেন্ট সুব্রত ত্রিপাঠী বলেন, “এই ঘাটের সঙ্গে কলকাতার আবেগ জড়িয়ে। একে নতুন করে গড়ে তোলা শুধুই এক প্রকল্প নয়—এটি শহরের আত্মপরিচয়কে সম্মান জানানো।”
তিনি আরও জানান, উন্নয়ন শুধুমাত্র কলকাতা বন্দর এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই ডিজাইন আর্কিটেক্টদের সঙ্গে পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে।
এই কাজ রয়েছে SMPK-র 'স্বচ্ছতা' উদ্যোগের আওতায়। লক্ষ্য একটাই - এই ঐতিহাসিক ঘাটকে শিল্পীরা, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং সহজগম্য করে তোলা।
কলকাতার প্রতিটি গলি, প্রতিটি ঘাট তার অতীতের গল্প বলে। কুমোরটুলি সেই গল্পের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এবার সেই ইতিহাস ফিরে পাবে সম্মান, শহরের মানুষ ফিরে পাবে গর্ব। সংস্কৃতি আবার বাঁচবে নতুন আলোয়।