শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ শুভেন্দু ও সাধুদের প্রতিনিধিদের হাইকমিশনে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে, সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার কাছাকাছি নাগাদ তাঁরা বাইরে বেরোন।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 26 December 2025 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়মনসিংহের দীপুচন্দ্র দাসের (Deepu Chadra Das) হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনে (Bangladesh Deputy High Commission) হাজির হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাধুসন্ত সমাজের প্রতিনিধিরাও।
হাইকমিশনে গিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একাধিক দাবি তুলে ধরেন শুভেন্দুরা। বৈঠক শেষে বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, দীপু দাস খুনের ঘটনায় যদি কার্যকর পদক্ষেপ না করা হয়, তবে গঙ্গাসাগর (Gangasagar) মেলা শেষে সাধুসন্তদের নিয়ে ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ধর্নায় বসা হবে। সে ক্ষেত্রে পুলিশের কোনও বাধা মানা হবে না বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ শুভেন্দু ও সাধুদের প্রতিনিধিদের হাইকমিশনে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে, সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার কাছাকাছি নাগাদ তাঁরা বাইরে বেরোন। শুভেন্দু জানান, ডেপুটি হাইকমিশনারের মাধ্যমে তাঁদের দাবিগুলি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই তাঁরা এসেছিলেন।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, সোমবার থেকেই ডেপুটি হাইকমিশনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চলছিল, কিন্তু সময় দেওয়া হচ্ছিল না। শুক্রবার বৈঠকে দীপু দাসকে কেন খুন করা হল, সেই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি বলেও দাবি তাঁর।
হাইকমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিচার শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁদের জামিন হবে না, এমনটাই দাবি শুভেন্দুর। তিনি আরও বলেন, কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। তবু দীপু দাসের পরিবারের জন্য কী দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তা জনসমক্ষে জানানো উচিত।
পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার কবে বন্ধ হবে এবং চিন্ময়কৃষ্ণকে কেন আটক করে রাখা হয়েছে— এই প্রশ্নগুলিরও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। এর পরেই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর ঘোষণা, মকর সংক্রান্তির পর গঙ্গাসাগর থেকে ফেরা সাধুসন্তদের নিয়ে মিছিল করে বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সামনে ধর্না দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি পুরোপুরি বন্ধের দাবিতে বাণিজ্য দফতরের সামনেও ধর্না কর্মসূচি হবে।
শুভেন্দুর দাবি, রাজ্য বা কলকাতা পুলিশ কেউই তাঁদের আটকাতে পারবে না। ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে যতই ব্যারিকেড দেওয়া হোক না কেন, তা ভেঙে ফেলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। যুবভারতী স্টেডিয়ামে যে ধরনের প্রতিবাদ হয়েছে, তেমন আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন বিরোধী দলনেতা।
এদিন যখন সাধুসমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে উপদূতাবাসে যান শুভেন্দু। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সকলকেই জামিন দেয় আদালত। মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এবিভিপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চ-সহ একাধিক সংগঠনের ডাকে উপদূতাবাস অভিযানে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই ঘটনায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাত জন মহিলা আগেই জামিন পেয়েছিলেন। শুক্রবার বাকি ১২ জনকেও জামিন দেওয়া হয়।