
আরজি কর হাসপাতালে হামলা - নিজস্ব ছবি
শেষ আপডেট: 15 August 2024 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালে যে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিবাদে এবার ডাকা হল ১২ ঘণ্টার বনধ। শুক্রবার ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এসইউসিআই। অন্যদিকে, এসএফআই-ডিওয়াইএফআই-এআইডিডব্লুএ-র তরফে বৃহস্পতিবারই এই ঘটনার প্রতিবাদে শিয়ালদহ থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করা হবে।
স্বাধীনতার মধ্য রাতে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নেমে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল আমজনতা। একেবারে অরাজনৈতিক জনজোয়ার দেখা গেছিল। মূলত মহিলাদের ডাকা কর্মসূচি হলেও সেখানে বহু পুরুষরা সামিল হতে দেখা যায়। এই প্রতিবাদের মাঝেই আরজি করে দুষ্কৃতী হামলা হয়। দাবি অনুযায়ী, পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে পড়ে অন্তত ২৫-৩০০ জন। ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় হাসপাতালে। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে করিডর সব জায়গা তছনছ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। তাই আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ছে।
জুনিয়র ডাক্তাররা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাঁদের দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসবেন না। উল্টে তাঁরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ, পুলিশ নিজেকে বাঁচাতে লুকিয়ে গেছিল, কোনও সাহায্য করেনি। অন্যদিকে আবার আরজি করের নার্সরা এই ঘটনায় শঙ্কিত। তাঁদের দাবি, বৃহস্পতিবার আবার হামলা করার হুমকি মিলেছে। একই সঙ্গে ধর্ষণ করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে! এতএব এটা স্পষ্ট, আরজি কর ইস্যু আরও জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় যারা দোষী তাঁরা শাস্তি পাবে। সেই প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে হামলাকারীদের খুঁজতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে যে ঘরে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ রয়েছে সেই সেমিনার রুম অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অনেকেই আশঙ্কা করেছেন, তথ্য লোপাট করতে ওই রুমে হামলা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছে, বুধবার রাতে হামলার সময়ে হাসপাতালের অ্যাসিস্টেন্ট সুপার ডিউটিতে থাকলেও তাঁদের খোঁজ নেননি। রাতের হামলার সময় এমারজেন্সিতে ৪-৫ জন কর্মী ছিলেন। সকলের কোনও রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে হাসপাতালের অ্যাসিস্টেন্ট সুপারের ঘরে যান সাহায্য চাইতে। তবে তিনি ঘর থেকে বের হননি। বরং বলেছিলেন পুলিশ নাকি তাঁকে ঘরেই থাকতে বলেছে! হাসপাতালের ভিতরে পুলিশ ইনচার্জ রুমেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ওই রুমেই সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ স্টোর করা হত। অভিযোগ উঠেছে, বুধবার রাতের ঘটনা সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে যাতে, সব প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়।