শোকের মৃত্যুতেও জয়ী ভাটপাড়ার যুবক সংগ্রাম, হার্ট-কিডনি-লিভারে বাঁচবে একাধিক প্রাণ, করোনা-পর্বে অঙ্গদানের নজির শহরে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পর্বে অঙ্গদানের ইতিহাসে এক দারুণ অধ্যায় রচনা করার মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য। ভাটপাড়ার ৩১ বছর বয়সি যুবকের ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে তাঁর অঙ্গগুলি দান করা হতে চলেছে একাধিক ব্যক্তিকে। প্রস্তুত হচ্ছে একাধিক গ্রিন করিডর। লকডাউনের মধ্
শেষ আপডেট: 17 August 2020 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পর্বে অঙ্গদানের ইতিহাসে এক দারুণ অধ্যায় রচনা করার মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য। ভাটপাড়ার ৩১ বছর বয়সি যুবকের ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে তাঁর অঙ্গগুলি দান করা হতে চলেছে একাধিক ব্যক্তিকে। প্রস্তুত হচ্ছে একাধিক গ্রিন করিডর। লকডাউনের মধ্যে নতুন এক ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে রাজ্যে তথা পূর্ব ভারতে।
শুক্রবার রাতে কল্যাণীতে একটি মোটরবাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন ভাটপাড়ার বাসিন্দা, পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ সংগ্রাম ভট্টাচার্য। ৩১ বছরের সংগ্রামকে প্রথমে কল্যাণীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলার পরেও কোনও উন্নতি হয়নি অবস্থার, আনা হয় অ্যাপোলো হাসাপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। অবশেষে তাঁর মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘটে। গতকাল অর্থাৎ রবিবার দুপুরে তাঁর অ্যাপনিয়া টেস্ট করেন চিকিৎসকরা। এর পরেই স্বাস্থ্য ভবনের নিয়ম মেনে সংগ্রামের ব্রে
ন ডেথ ঘোষণা করেন চিকিৎসকদের কমিটি।
এর পরেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্তাদের তরফে মৃত যুবকের পরিবারের কাছে অনুরোধ করা হয়, তাঁরা যদি যুবকের সক্রিয় অঙ্গগুলি দান করেন অন্য রোগীদের শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য। পরিবারের সম্মতি মেলে। এর পরেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় এবং সোমবার অস্ত্রোপচারের কাজও শুরু হয়ে যায় কলকাতায়। তৈরি হয়েছে গ্রিন করিডোর। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পৌঁছনো হচ্ছে নির্দিষ্ট হাসপাতালে।
পরিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পরে রোটো (রিজিওনাল অর্গ্যান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন)-র মাধ্যমে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করার নির্নিষ্ট রোগীদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। রবিবার সন্ধ্যার মধ্যেই যোগাযোগ করা হয় আগরতলার ৫৯ বছর বয়সি এক ব্যক্তির সঙ্গে। তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। রাতের ফ্লাইটে দ্রুত তাঁকে নিয়ে আসা হয় কলকাতায়।
পাশাপাশি, লিলুয়ার বাসিন্দা, ২৯ বছর বয়সি এক যুবককেও দ্রুত কাল রাতেই নিয়ে আসা হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। তাঁর কিডনির প্রয়োজন আছে, যার সঙ্গে ম্যাচ করেছে সংগ্রামের কিডনি। সংগ্রামের অন্য একটি কিডনি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএম-এ। সেখানে এক ব্যক্তিকে রাতেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
সংগ্রামের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হবে হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালে ভর্তি ১৭ বছরের কিশোরীর শরীরে। সংগ্রামের চোখও ইতিমধ্যেই দান করা হয়েছে, দিশা চক্ষু হাসপাতালে সংরক্ষিত আছে তা। এসএসকেএম হাসপাতালের স্কিন ব্যাঙ্কে সংগ্রামের শরীরের ত্বক দান করারও সম্মতি দিয়েছে পরিবার।
অ্যাপোলো হাসপাতালের চিফ অপারেটিং অফিসার চিকিৎসক জয় বসু বলেন, "যুবকের মৃত্য়ুর পরে পরিবার ভেঙে পড়লেও, অঙ্গদানের বিষয়ে দারুণ ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। এই করোনা সংক্রমণ পর্বে এটা আমাদের কাছেও একটা যুদ্ধের মতোই। কারণ আমরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে এই এত বড় প্রতিস্থাপনের কাজটা করছি। সংগ্রামের পরিবারকে ধন্যবাদ জানানোর কোনও ভাষা নেই। আমাদের তরফে শ্রদ্ধা রইল তাঁদের সিদ্ধান্তের প্রতি।"