পুজো মানেই জমাটি আড্ডা, পেটপুজো, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরা আর শহরজোড়া উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই আনন্দ যাতে কারও জন্য বিষাদ না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতেই কোমর বেঁধে নেমেছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 18 September 2025 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। ঢাকের বোল, কাশফুলের ছোঁয়া আর আকাশে হালকা নীল– সব মিলিয়ে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো (Durga puja) প্রায় দরজায় কড়া নাড়ছে। পুজো মানেই জমাটি আড্ডা, পেটপুজো, বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরা আর শহরজোড়া উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই আনন্দ যাতে কারও জন্য বিষাদ না হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতেই কোমর বেঁধে নেমেছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ (Kolkata Municipal Corporatio)।
বৃহস্পতিবার, ডেপুটি মেয়র তথা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা অতীন ঘোষের নেতৃত্বে হেদুয়া মোড় থেকে শুরু হয় এক বিশেষ খাদ্য ভেজাল বিরোধী অভিযান। লক্ষ্য একটাই— পুজোর সময় কলকাতাবাসী এবং শহরে আসা দর্শনার্থীরা যেন নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাবার পান।
এদিন হেদুয়া থেকে শ্যামবাজার (Hedua , Shyambazar) পর্যন্ত বিভিন্ন ফুড স্টল ও রেস্তরাঁয় হানা দেন পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। রান্না করা খাবার, ব্যবহৃত মশলা ও অন্যান্য উপকরণের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সঙ্গে থাকা মোবাইল ফুড টেস্টিং ভ্যানেই সেগুলির গুণমান পরীক্ষা করা হয়। কোথাও কোনও ক্ষতিকর রং বা ভেজাল উপাদান রয়েছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখা হয়।
ডেপুটি মেয়র নিজেও একাধিক খাবারের দোকান ঘুরে খোঁজখবর নেন। কোথায় কীভাবে খাবার প্রস্তুত হচ্ছে, তা নজরে রাখেন। শুধু অভিযানই নয়, সচেতনতা বাড়াতেও জোর দেয় পুরসভা। ফুড স্টলের মালিক ও কর্মীদের হাতে লিফলেট তুলে দিয়ে জানানো হয়, কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করতে হবে।
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, “পুজোর সময় শহরে প্রচুর অস্থায়ী খাবারের দোকান গজিয়ে ওঠে। চাহিদার চাপে অনেক সময় মান বজায় থাকে না। তাই আমরা আগে থেকেই সতর্কতা নিচ্ছি।”
বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। কারণ উৎসবের ভিড়ে কখন কোন খাবার শরীরে ক্ষতি ডেকে আনবে, তা বোঝা মুশকিল। তাই আগাম সতর্কতা নিতেই এই পদক্ষেপ।
এখন দেখার, পুরসভার এই তৎপরতা শহরের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ভরপুর পেটপুজোয় কতটা নিরাপত্তা যোগায়। তবে আপাতত বলা যায়, পুজোর আনন্দ যাতে ভেজালে না মেশে, তা নিশ্চিত করতেই কলকাতা পুরসভা তৈরি।