আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, শিক্ষককে স্কুল চত্বরে মারধর, হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে লঘু ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা।
শেষ আপডেট: 18 September 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেয়ে গেলেন কাকদ্বীপের অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ত্রিদিব বাড়ুই। গোটা ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা।
আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, শিক্ষককে স্কুল চত্বরে মারধর, হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে লঘু ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার পরিণামে নির্দ্বিধায় জামিন পেয়ে গেলেন অভিযুক্ত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্নের মুখে পুলিশি নিরপেক্ষতা।
ঘটনার সূত্রপাত, গত মঙ্গলবার স্কুল চলাকালীন ত্রিদিববাবু আচমকা স্কুলে হাজির হন। স্কুলের একাংশে পড়ুয়াদের সামনেই শুরু হয় বচসা। তারপর ঘাড় ধাক্কা দিয়ে স্কুলের করিডর দিয়ে শিক্ষককে টেনে নিয়ে যান তিনি। স্কুল চত্ব্র থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এসডিপিও অফিসের দিকেও। ঘটনায় আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরাও।
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ত্রিদিব শুধু একজন পঞ্চায়েত সদস্যই নন, স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি পদেও রয়েছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই প্রথম নয়—গত এপ্রিল মাসেও একই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
স্কুল লাগোয়া এলাকাতেই আক্রান্ত শিক্ষকের বাড়ি। তাঁর অভিযোগ, বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বিভিন্ন ইস্যুতে। স্কুলের কাজে হস্তক্ষেপ, মিটিংয়ে চাপ সৃষ্টি, এমনকি স্কুলে চাঁদা তোলার দাবিও উঠছিল বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও রাজ্যের একাধিক প্রান্তে শিক্ষকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়— বাদ যায়নি কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই।
গোটা ঘটনায় শাসকদলের পাশাপাশি প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকাও। যদিও দলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি পুলিশেরও।