
শেষ আপডেট: 23 August 2021 13:57
নিত্যযাত্রীরা জানাচ্ছেন, সবথেকে বড় সমস্যা হল এতবড় বাসস্ট্যান্ডে বসার জায়গা নেই। দূরপাল্লার বাসের জন্য এসে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মহিলাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শৌচাগার। যে ক'য়েকটি রয়েছে, সেগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এখন লোকাল ট্রেন বন্ধ তাই বন্ধ রয়েছে মহিলাদের 'পে এন্ড ইউজ' টয়লেট। বাধ্য হয়ে পুরুষদের টয়লেটে ঢুকতে হচ্ছে তাঁদের। সেখানকার এক কর্মী জানান, লোকাল বন্ধ, তাই মহিলাদের শৌচাগার বন্ধ রয়েছে।
প্রায়ই কলকাতা আসতে হয় পূর্ব মেদিনীপুরের সন্তু বারিককে। একটি শৌচাগারের সামনে বসেছিলেন। বললেন, 'বহুক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু বসার ব্যবস্থা নেই। চারিদিকে আবর্জনা।'
কন্ডাক্টর তপনকান্তি দাস বললেন, 'উনিশ বছর ধরে আসছি। এখন একটু উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আবর্জনা সেই একইরকম। স্বচ্ছ ভারত চাইছিল, এই তো আমাদের স্বচ্ছ ভারত।'
একই পরিস্থিতি বাবুঘাটের বাসস্ট্যান্ডেরও। এখান থেকে ভিনরাজ্যে দূরপাল্লার বাস চলে। মেলে ওড়িশা, বিহারের বাস। সেখানেও যত্রতত্র নোংরা। যাত্রীদের বসার জায়গা নেই। লাইন দিয়ে শৌচাগারে ঢুকতে হয়।
কলকাতা-পাটনা বাসের কন্ডাক্টর আবদুল হাকিম বললেন, 'বহু লোকের ভিড় হয়। তাই পরিষ্কার রাখতে হিমসিম খেতে হয় সবাইকে। যাত্রীদেরও খেয়াল রাখা উচিত।
ধর্মতলা এবং বাবুঘাট, কোথাও পরিচ্ছন্ন খাবারের হোটেল, দোকান নেই। দোকানের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। দু জায়গা থেকেই প্রতিবেশী রাজ্যের বাস ছাড়ে। মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় প্রতিদিন।
ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ডের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে পূর্ত দফতর। জায়গাটি নোংরা থাকা নিয়ে দফতরের আধিকারিকরা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এলাকার হকারদের বিরুদ্ধে। পূর্ত দফতরের সিটি অফিসের এক আধিকারিক জানান, সকাল আটটায় পরিষ্কার করার দু’ঘণ্টার মধ্যে হকাররা যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলে নোংরা করে ফেলেন। আধিকারিকদের প্রশ্ন, দিনে কত বার পরিষ্কার করা যায়? যদিও হকারদের অভিযোগ, নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়াতেই এলাকা নরকের আকার নেয়।
কতদিন এই নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে যাত্রীদের। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ঠিক হয়েছিল মূল কলকাতার বাইরে চারদিকে চারটে বাসস্ট্যান্ড তৈরি করা হবে। কারণ এসপ্ল্যানেড এবং বাবুঘাট এলাকা সেনাবাহিনীর। তারা এখানে কোনও নির্মাণ করতে দেবে না। তাই বাসস্ট্যান্ড এখান থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একমাত্র হাওড়ায় কোনা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একটি বাসস্ট্যান্ড চালু হয়েছে। সেটাও রেল স্টেশন থেকে অনেকটা দূরে হওয়ায় বেশিরভাগ বাস সেখান থেকে ছাড়ে না। ফলে অদূর ভবিষ্যতে নরক যন্ত্রণার অবসানের কোনও সম্ভাবনা নেই।