পরিবারের অভিযোগ, সুধীর ও সুজিতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা (Murder) করা হয়েছে। তাঁদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 12 July 2025 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি থানার ভাঙনমারি গ্রাম। শুক্রবার মহরমের রাতে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পর সকালে ওই এলাকার কাছেই দুই যুবকের মৃতদেহ (Dead Body) উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের নাম সুধীর পাইক ও সুজিত দাস। তাঁদের মৃত্যুকে ঘিরে একদিকে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর, অন্যদিকে দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন।
পরিবারের অভিযোগ, সুধীর ও সুজিতকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা (Murder) করা হয়েছে। তাঁদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। তবে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা বক্তব্য, দু’জনেই অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন।
এই ঘটনা রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে দ্রুত। নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলেন। তাঁর দাবি, “এটা স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, এটা খুন। আর খুন করা হয়েছে শুধু হিন্দু বলেই। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার নেপথ্যে।” তিনি এ-ও জানান যে, ময়নাতদন্ত যেন নিরপেক্ষভাবে হয়, তাই কেন্দ্রীয় হাসপাতালের কোনও চিকিৎসককে উপস্থিত থাকতে হবে এবং পরিবারকে ময়নাতদন্তের সময় থাকার অনুমতি দিতে হবে।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, শনিবার দুপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে, এবং আগামী সোমবার খেজুরিতে হিন্দু সংগঠনগুলির ডাকে বনধ হবে। তিনি নিজে নেতৃত্ব দেবেন জনকা থেকে বিদ্যাপীঠ মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে।
অন্যদিকে, শাসক দলের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য শ্যামল মিশ্র। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। অথচ বিজেপি এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহ দু'টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে খুন না দুর্ঘটনা— সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ।