বিজেপির অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। কেশপুরের তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, “যতদূর জানা গিয়েছে, ওরা জঙ্গলে পিকনিক করছিল। মদ খেয়ে নিজেদের মধ্যেই মারপিট হয়েছে। পথে মহিলাদের টোন কাটছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।"

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 4 February 2026 14:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাম আমলে রাজনৈতিক হিংসার জন্য বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর (Keshpur)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে (Assembly Election) সেই কেশপুরই ফের উত্তপ্ত। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ((TMC)। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন বিজেপি কর্মী (BJP meeting, 8 hospitalized)। তাঁদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে কেশপুর ব্লকের ৭ নম্বর অঞ্চলের রামাকাটা এলাকায়। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় একটি অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠক শেষ করে বিজেপি কর্মীরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছিলেন। সেই সময়ই আচমকা তাঁদের উপর বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মারধরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। হামলায় বিজেপি কর্মীদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চোট লাগে। স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার প্রতিবাদে রাতেই জেলা পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে বিক্ষোভে বসে বিজেপি। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও কড়া শাস্তির দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের আগে এলাকায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ভিডিয়ো কলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাসের সঙ্গে কথা বলেন। ভিডিও কলে আহতদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত খবর নেন শুভেন্দু। পাশাপাশি, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন তিনি। দিন কয়েকের মধ্যেই রামাকাটা এলাকায় দলীয় কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানান বিরোধী দলনেতা।
তবে বিজেপির অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। কেশপুরের তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক বলেন, “যতদূর জানা গিয়েছে, ওরা জঙ্গলে পিকনিক করছিল। মদ খেয়ে নিজেদের মধ্যেই মারপিট হয়েছে। পথে মহিলাদের টোন কাটছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের কেউ যুক্ত নয়। এটা বিজেপির অন্তর্কলহ।”
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভোটের আগে কেশপুরে এই অশান্তি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।