কাটোয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে দেবাশিসবাবুর কান্না যেন প্রশাসনিক বাস্তবের এক করুণ প্রতিচ্ছবি— যেখানে দায়িত্বের ভারে মানুষের ভেতরের মানুষটাই কখনও কখনও ভেঙে পড়ে।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 13 November 2025 20:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশিক্ষণ শিবিরে এসেছিলেন ভোটের প্রস্তুতির পাঠ নিতে। কিন্তু কাজের চাপ, অসুস্থ শরীর আর মানসিক ক্লান্তির জেরে শেষমেশ ভেঙে পড়লেন এক বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাটোয়ার ১ নম্বর বিডিও অফিসে চলা বিশেষ প্রশিক্ষণে (Election Commission training center) হঠাৎই কান্নায় ভেঙে পড়লেন দেবাশিস দাস নামে ওই বিএলও (Katwa BLO ,breaks down in tears)। কাঁদতে কাঁদতে সহকর্মীদের সামনে বলে ফেললেন, “আমি পারব না। আমারে মেরে ফেলুন!”
৭৯ নম্বর বুথের দায়িত্বে থাকা দেবাশিসবাবু কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে রয়েছেন। তার মধ্যেই ভোটার তালিকার কাজের চাপে নাজেহাল তিনি। বৃহস্পতিবারের প্রশিক্ষণে বিএলও অ্যাপে ভোটারদের তথ্য আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর সেই নির্দেশ শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।
চোখে জল, কণ্ঠে ক্লান্তি, “সামনে কার্তিক পুজো। এক একটা এন্ট্রি করতে গেলে ১৫ মিনিট লাগে। ১১০০ ভোটার কীভাবে করব? না খাওয়া, না ঘুম। আমার ফ্যামিলি লাইফ শেষ। কাল ভাবছিলাম গলায় দড়ি দেব…” এই বলে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন দেবাশিসবাবু।
ওই দৃশ্য দেখে বাকি বিএলওরাও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। অনেকেই প্রশাসনিক কর্তাদের সামনেই বিক্ষোভ শুরু করেন। কেউ কেউ প্রশিক্ষণ শিবির ছেড়েও চলে যান। মুহূর্তের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাটোয়া ১ নম্বর বিডিও অফিস চত্বর।
ঘটনার পর কাটোয়ার এসডিও অনির্বাণ বসু বলেন, “কমিশনের নির্দেশ মেনে আমরা ওনাদের ডিজিটাইজেশনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। বিএলও অ্যাপ এবং বিলি করা ফর্ম কীভাবে আপলোড করবেন, তারই প্রশিক্ষণ ছিল আজ। ৯০ শতাংশের বেশি উপস্থিত ছিলেন।”
তবে প্রশাসনের যুক্তি সত্ত্বেও মাঠে কাজ করা কর্মীদের ক্ষোভ স্পষ্ট। এক বিএলওর কথায়, “আমরা দিনরাত ছুটছি। শরীর মন দিচ্ছি। কিন্তু কাজের পরিমাণ এত বেশি যে, সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।”
কাটোয়ার প্রশিক্ষণ শিবিরে দেবাশিসবাবুর কান্না যেন প্রশাসনিক বাস্তবের এক করুণ প্রতিচ্ছবি— যেখানে দায়িত্বের ভারে মানুষের ভেতরের মানুষটাই কখনও কখনও ভেঙে পড়ে।