
শেষ আপডেট: 13 May 2023 09:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিমাচলপ্রদেশের পর কর্নাটক (Karnataka Assembly Election)। পাঁচ মাসের ব্যবধানে দু’দুটি রাজ্যে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে জয় হাসিল করল কংগ্রেস (Congress)। কর্নাটকের ফল ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনই স্পষ্ট করে বলা মুশকিল। কিন্তু মোদী বিরোধী জোট (anti-Modi alliance) গঠনে কংগ্রেসের জায়গা পোক্ত হল তাতে কোনও সন্দেহ নেই, মনে করছে রাজনীতির বহু পণ্ডিত।
আঞ্চলিক দলগুলির আপত্তি বিবেচনায় রেখে কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত সরাসরি এই ব্যাপারে সামনের সারিতে থাকছে না। তারা এগিয়ে দিয়েছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে। জেডিইউ নেতা ইতিমধ্যে অবিজেপি নেতাদের সিংহভাগের সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলেছেন।
রাজনৈতিক মহলের খবর, কংগ্রেস সম্পর্কে এখনও মনোভাব বদলের ইঙ্গিত মেলেনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবেব। গত মাসে একইদিনে দু’জনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন নীতীশ।
সেই আলোচনা হয়েছিল কর্নাটকের ভোটের প্রচারের মাঝপথে। ওই বৈঠকের পর মমতা বলেছিলেন, কর্নাটকে বিজেপি হারলে খুশি হব। লক্ষণীয় হল, তৃণমূল নেত্রী বলেননি, কংগ্রেস জিতলে খুশি হব।
নীতীশ জোট ধর্ম মেনেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। যথারীতি নবীন অবস্থান বদল করেননি। তিনি আসলে বিজেপি-অবিজেপি কোনও শিবিরেই নেই। মোটের উপর একই অবস্থান অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডিরও।
কিন্তু তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও? তাঁর রাজ্যে কংগ্রেসই খাতায় কলমে প্রধান বিরোধীদল। মমতা, অখিলেশদের মতো তিনিও মনে করেন, বিজেপির মোকাবিলায় কংগ্রেসের আন্তরিকতার অভাব আছে। তবে মমতা, অখিলেশদের মতো কেসিআরের এই অভিমতও পুরনো।
কর্নাটকে লড়াইয়ের কথা বলেও শেষ মুহূর্তে তেমন গা ঘামায়নি আম আদমি পার্টি। যদিও আপের মতো শহুরে পার্টির জন্য কর্নাটক যথেষ্ট উর্বর ভূমি ছিল। তারা কোমর বেঁধে লড়াই করলে কংগ্রেসের ফল কী হত বলা মুশকিল। সদ্যই তারা গুজরাতে কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে জাতীয় দলের স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির লাগাতার বিরোধিতার মুখে কংগ্রেস বিরোধী সুরে লাগাম দিয়েছেন। কংগ্রেসও আর আগের মতো আপের উপর খড়্গহস্ত নয়। তবে মমতা, অখিলেশ, কেসিআরের মতো কেজরিওয়ালেরও রাহুল গান্ধীকে নিয়ে আপত্তি আছে।
কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই জায়গাতেও কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন। জোট সংক্রান্ত আলোচনায় রাহুল থাকলেও দলের কথা বলছেন মূলত সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। এই ক্ষেত্রে অন্তত রাহুল নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন। তার উপর পর পর দুটি রাজ্যে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে এনে কংগ্রেস আঞ্চলিক দলের নেতাদের বক্তব্যকে অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে পেরেছে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাছাড়া সিপিএম-সিপিআই এবং নীতীশের দল জেডিইউ ছাড়াও আরজেডি, ডিএমকে, এনসিপি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, শিবসেনার (উদ্ধব গোষ্ঠী) কংগ্রেসের পাশে আছে। এখন দেখার বিজেপি বিরোধী বোঝাপড়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সঙ্গে মমতা, অখিলেশ, কেসিআরদের সম্পর্কের রসায়ন কী দাঁড়ায়।
মোদী নন, কর্নাটকে ম্যাজিকের নাম ইয়েদুরাপ্পা, দলের হারেও ‘হিরো’ বিএসওয়াই