
শেষ আপডেট: 23 December 2023 09:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাতায় কলমে এখনও তিনি তৃণমূলের সাংসদ। তবে আদৌ তিনি কতটা ঘাসফুলে, আর কতটা পদ্মে, সে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা রয়েছে। এহেন 'তৃণমূল' সাংসদ শিশির অধিকারীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করায় দলের অন্দরে শাস্তির মুখে পড়লেন কাঁথির তৃণমূল পুরপ্রধান সুবল মান্না। শুক্রবার রাতেই রাজ্য নেতৃত্বের তরফে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে সুবলকে। সাংবাদিক সম্মেলন করে সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি পীযূষ পন্ডা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কাঁথির একটি স্কুলে এই ঘটনা ঘটে। ওই স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী। ছিলেন সুবল মান্নাও। ঘনিষ্ঠ মহলে সুবল শিশিরকে তাঁর রাজনীতির 'গুরু' বলে মানেন। এদিন ওই স্কুলের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেও তাঁকে গুরুদেব বলে ডেকে বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন সুবল মান্না। এতেই বিতর্ক শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলের এই ঘটনার কথা জানাজানি হয় শুক্রবার। তারপরেই শো-কজ করা হয় সুবলকে। জানা গেছে, তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব ঘটনাটিকে একেবারেই ভালভাবে নেননি। শিশির অধিকারী খাতায়-কলমে এখন তৃণমূলের সাংসদ হলেও তিনি যে গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন তা নতুন খবর নয়। বরং ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপির সভা অনুষ্ঠানে দেখা গেছে তাঁকে, তাঁর বক্তব্যেও সেই সুর শোনা গেছে। স্পষ্টতই, তৃণমূলের প্রবীণ ঘোড়াকে নিয়ে অসন্তুষ্ট দল। এমনকী, তাঁর সাংসদ পদ খারিজ করার জন্য লোকসভায় আর্জিও জানিয়েছিল তৃণমূল।
স্বভাবতই সেই শিশির অধিকারের সঙ্গে কাঁথির পুরপ্রধানের এই ঘনিষ্ঠতা ভালভাবে নেয়নি তৃণমূল। যদিও সুবলের দাবি, মঞ্চে একজন বয়স্ক মানুষ বসেছিলেন বলে তিনি শুধু সম্মানটুকু দেখিয়েছেন। তবে শো-কজ নোটিস পাওয়ার কথা স্বীকার করেননি তিনি। জানিয়েছেন, তৃণমূল নেতৃত্বকে যা বলার বলবেন। "যিনি আমাকে চেয়ারম্যান করেছেন, তাঁকেই কৈফিয়ার দেব," স্পষ্ট কথা সুবল মান্নার।