
রত্না চট্টোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 February 2025 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়ের (Ratna Chatterjee) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (High Court) দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তৃণমূলের আইনজীবী-সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। বিপক্ষের মক্কেল হয়ে আইনজীবীকে 'কুরুচিকর' আক্রমণ করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কল্যাণ।
সোমবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কল্যাণ বলেন, একাধিক সংবাদমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মেয়েকেও ছেড়ে কথা বলা হচ্ছে না। প্রশ্ন তোলেন, "এটা কী ধরনের আচরণ? আদালতকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা যায়? একজন বিরোধীপক্ষের আইনজীবীকে নিয়ে যা খুশি বলা, এটা কেমন কথা?" আশঙ্কাপ্রকাশ করে কল্যাণ বলেন, "এটা আদালত না হয়ে বাইরে কোথাও হলে তো মারধরও করতে পারত।"
দ্য ওয়ালকে এ ব্যাপারে কল্যাণ জানান, "কোর্টের বাইরে একজন উল্টোদিকের আইনজীবীকে এভাবে কুরুচিকর স্টেটমেন্ট করবে, অপমান করবে, থ্রেট করবে, এটা তো হয় না। কোর্ট শোনার পরই সঙ্গে সঙ্গে বিরক্ত প্রকাশ করে। আমি জানালাম একটা মামলা দায়ের করতে চাই এ ব্যাপারে। তখন বিচারপতি বিরোধী পক্ষের আইনজীবীকে কার্যত সতর্ক করে দেন। এসব কি ছেলে খেলা হচ্ছে নাকি? আমি জীবনে অনেক মহিলা দেখেছি, এরকম সাবস্ট্যান্ডার্ড মহিলা দেখিনি।"
২০১৭ সালে আলিপুর আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন শোভন। শহরের প্রাক্তন মেয়রের পক্ষে যাঁরা সাক্ষী, তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রত্নার পক্ষেও চার জন সাক্ষী দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রত্না নিম্ন আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন, তাঁর পক্ষে আরও কিছু সাক্ষী রয়েছেন। তাঁদেরও সাক্ষ্য নেওয়া হোক। কিন্তু আলিপুর কোর্ট তা খারিজ করে শুনানি শুরুর নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে মামলা করেন বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে তাঁর বিধায়ক স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় সওয়াল করছেন। যার পর থেকেই নিউজেরই দলের নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রত্না। দ্য ওয়ালকে তিনি বলেন, এই কল্যাণই একসময় তাঁকে শোভনকে ডিভোর্স না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কল্যাণকে 'পাল্টিবাজ' বলেও আক্রমণ করেন রত্না। যদিও সবটা নাকচ করে কল্যাণ বলেন, এসবই অসত্য। সবটাই বানিয়ে বলছেন বিরোধীপক্ষের মক্কেল।
দ্য ওয়াল বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণের কাছে রোববার প্রশ্ন রেখেছিল, রত্নার বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য তিনি কি কোনও রকম ব্যবস্থা নেবেন ভবিষ্যতে? আদালতের নজরে আনবেন? কল্যাণ উত্তরে জানান, "এককালীন এমএলএ কী বললেন না বললেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না। পাত্তাই দিই না। এখনও কিছু ভাবিনি এ ব্যাপারে।"
যদিও দিন ঘুরতেই দেখা গেল কল্যাণ ছেড়ে কথা বললেন না। হাইকোর্টের নজরে আনলেন গোটা ব্যাপারটা। কল্যাণের অভিযোগ পেয়ে রত্নার আইনজীবীর কাছে বিষয়টি বিচারপতি জানতেও চান। আগামী বুধবার তিনি এ বিষয়ে রত্নার বক্তব্য শুনে মামলা দায়েরের অনুমতির বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।