তৃণমূলের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দেখা যায়, পার্টি অফিসের উঠোনে ঘোরাঘুরি করছেন কল্যাণ (Kalyan Banerjee)। মহুয়া (Mohua Maitra) ঢুকতেই তিনি বলেন, যাহ আজকের দিনটা গেল।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষের বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 4 August 2025 23:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) লোকসভায় (Parliament) তৃণমূলের (TMC) দলনেতা হচ্ছেন, এই ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূলের একাংশে কৌতূহলের স্রোত বয়ে গেছিল— এ বার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) কী হবে? কারণ কল্যাণ হলেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক (chief whip)। সভায় দলনেতার কথা শুনেই মুখ্য সচেতককে চলতে হয়। তাই প্রশ্ন ওঠে, কল্যাণ কি অভিষেকের নেতৃত্ব মেনে নেবেন, নাকি অভিষেকই চাইবেন না কল্যাণ মুখ্য সচেতক থাকুক।
এই সব সাত সতেরো জল্পনা যখন সবে শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই জানা যায় যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে ইস্তফা (Kalyan Banerjee Resigned) দিয়েছেন। শুধু ইস্তফা দেওয়া নয়, কিছুক্ষণের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলে কল্যাণ বলেন, মমতাদি বলেছেন, আমি নাকি ঠিক মতো সমন্বয় করে চলতে পারছি না। লোকসভায় কে কবে কখন বলবেন, তাও ঠিক করতে পারছি না। তাই আমি ইস্তফা দিয়েছি।
এরই পাশাপাশি দলীয় সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে (Mohua Maitra) নিয়ে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দেন কল্যাণ। এদিন তৃণমূলের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দেখা যায়, পার্টি অফিসের উঠোনে ঘোরাঘুরি করছেন কল্যাণ। মহুয়া ঢুকতেই তিনি বলেন, যাহ আজকের দিনটা গেল।
এর পর ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন। তার পর থেকেই নাটকীয় সব ঘটনা ঘটতে থাকে কল্যাণকে ঘিরে।
তবে কল্যাণের ইস্তফা এখনও গৃহীত হয়নি। 'দ্য ওয়াল'কে তিনি বলেন, যেভাবে ইস্তফা দিতে হয় সেভাবেই দিয়েছি। অবশ্য এর পর অভিষেক আমাকে ফোন করেছিল। ও বলেছে, ৭ তারিখ দিল্লিতে আসছে। ততদিন যেন অপেক্ষা করি।”
কল্যাণ ও মহুয়ার মধ্যে ঝগড়া বা কলহ এখন খোলা খাতার মতোই। তা নিয়ে কোনও রহস্য নেই। এদিন মহুয়া পার্টি অফিসে ঢুকতেই কল্যাণ যে রকম স্বগতোক্তি করে ওঠেন, তা দেখে এটা বোঝার উপায় নেই যে শুধু তাঁর উপর রাগ করেই পদ ছাড়লেন কল্যাণ।
বরং তৃণমূলের একাংশ নেতার কথায়, হতে পারে কল্যাণ আন্দাজ করছিলেন যে অভিষেক লোকসভার দলনেতা হতেই তাঁকে মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই আগে ভাগে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন।
২০০৯ সাল থেকে লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায় এখন অসুস্থ। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, হতে পারে কল্যাণ আশা করেছিলেন সুদীপের পর সিনিয়রিটির জন্য তাঁকেই লোকসভার দলনেতা করা হবে। তা ছাড়া দলের মুখ্য সচেতক পদেও তিনি অনেক দিন ধরে রয়েছেন। সংসদের বিষয়-আশয়ও জানেন। কিন্তু অভিষেককে হঠাৎ লোকসভার নেতা করে দেওয়ায় তিনি হতাশ।
এদিন ইস্তফা দেওয়ার পর কল্যাণের সঙ্গে কথা বলেন, দ্য ওয়ালের সাংবাদিক। তবে কল্যাণ বারবারই বোঝাতে চান, মহুয়া মৈত্র ভুল তথ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কান ভাঙিয়েছেন। সেই কারণেই তিনি হতাশ। তাই পদ ছাড়লেন।
কল্যাণ ইস্তফা দেওয়ায় আপাতত স্থির হয়েছে যে কাকলি ঘোষদস্তিদার লোকসভায় তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়টি দেখবেন। মুখ্য সচেতক কাকে করা হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে ঘটনা হল, কল্যাণ মুখ্য সচেতক পদে না থাকতে চাইলে কাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে। কারণ অনেকেরই সংসদীয় বিষয়ে অভিজ্ঞতা কম। বিশেষ করে সংসদের নিয়মকানুন নিয়ে অনেকেরই ধারণা নেই। কল্যাণ আইনজীবী, সংসদীয় নিয়মকানুন নিয়ে তাঁর সহজাত আগ্রহ ছিলেন। এমনটা অনেকেরই থাকে না।
তৃণমূলের এক নেতার কথায়, কল্যাণ মুখ্য সচেতক হতে না চাইলে বিকল্প বলতে রয়েছে মহুয়া মৈত্র, কাকলি ঘোষদস্তিদার, শত্রুঘ্ন সিনহা বা কীর্তি আজাদ। কিন্তু শেষ দুজনের সম্ভাবনা খুব কম। দলের মধ্যেই কারও কারও ধারণা রয়েছে মহুয়া আগ বাড়িয়ে খেলেন। ফলে পড়ে রইলেন শুধু কাকলি। তাঁরও শরীর ইদানীং ভাল যাচ্ছে না। হতে পারে এই সব সাত পাঁচ ভেবে কল্যাণকে ধৈর্য্য ধরতে বলেছেন অভিষেক। বাকিটা সময় বলবে।