অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হতেই চিফ হুইপের পদ ছাড়লেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 4 August 2025 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা হতেই চিফ হুইপের পদ ছাড়লেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, মমতা অভিষেককে লোকসভায় দলের দলনেতা হিসেবে নেত্রী ঘোষণা করার পরই লোকসভায় এতদিন দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলানো কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেন। জানা গিয়েছে, কল্যাণের পদে এখনই কাউকে না বসালেও আপাতত সমন্বয়ের দায়িত্ব কাকলী ঘোষ দস্তিদারকে দেওয়া হল।
সূত্রের খবর, কল্যাণ রিজাইন দিতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেন তাঁকে। জানা গিয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অনুরোধ করেছেন, ৭ অগস্ট তাঁর সঙ্গে কথা বলে যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন কল্যাণ। যদিও ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। যা এখনও গ্রহণ হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।
লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ ছাড়তেই যখন কল্যাণকে নিয়ে আলোচনা চলছে রাজ্য-রাজনীতিতে, তখনই সেই চর্চায় ঘি ঢেলেছে শ্রীরামপুরের সাংসদের এক্স পোস্ট। যেখানে সরাসরি মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) নাম না নিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
যেখানে তিনি লিখেছেন, "আমি মহুয়া মৈত্রর সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো লক্ষ্য করেছি। এক পাবলিক পডকাস্টে তিনি তাঁর সহ-সाংসদকে 'শুয়োর' পর্যন্ত বলেন। এ ধরনের অবমাননাকর ভাষা গণতান্ত্রিক বাক্সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা ছাড়া কিছু নয়।"
কল্যাণ তাঁর দীর্ঘ পোস্টে আরও লেখেন, "যাঁরা গালাগাল দিয়ে বক্তব্য প্রকাশ করেন, তাঁদের উচিত নিজেদের রাজনীতির ধরন নিয়ে আত্মসমালোচনা করা। কারণ কোনও জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও অশালীন ইঙ্গিতের আশ্রয় নিলে, তা শক্তির প্রকাশ নয়, তা নিরাপত্তার অভাব।"
কল্যাণের বক্তব্য, "আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, আমি একজন জনপ্রতিনিধির কাছে জবাবদিহি চেয়েছিলাম। কোনও পুরুষ বা নারী, যে কাউকেই তার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তা যদি অস্বস্তিকর বা অপ্রিয় হয়, তাহলেও তা 'নারীবিদ্বেষ' বলে আলোচনা থেকে পালিয়ে যাওয়া চলে না।"
শেষে কল্যাণ আরও লেখেন, "এটি সরাসরি অপমান। যদি এমন কথা একজন নারীর উদ্দেশে বলা হতো, তাহলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হত। কিন্তু পুরুষকে এসব বলে বাহবা পাওয়া যায়। এটা দ্বিচারিতা। মহুয়া মৈত্র যদি মনে করেন, এসব করে ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যাবে বা নজর ঘুরিয়ে দেওয়া যাবে, তা হলে তিনি ভুল করছেন। যাঁরা যুক্তি বা তথ্যের বদলে অপমান বেছে নেন, তাঁরা গণতন্ত্রের রক্ষক নন, তা দেশের মানুষ খুব ভালভাবেই বুঝতে পারেন।"
তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, এদিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, দুই সাংসদের দ্বন্দ্ব কখনওই দলের থেকে বড় নয়। কোনও নাম নেননি তিনি। তবে মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কথা বলা হয়েছে বলে মনে করছেন বাকি সাংসদরা। কারণ কয়েকদিন আগে দুই সাংসদের সংঘাত চরমে পৌঁছেছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।