
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 November 2024 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হওয়া জুনিয়র ডাক্তারদের ফের নিশানা করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারের দাবি তো বটেই, হাসপাতালের সুরক্ষায় একাধিক পদক্ষেপের কথা বলেও আন্দোলন চালাচ্ছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে বহু। এবার সেই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালে ডাক্তারদের কাজ খতিয়ে দেখতে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবি জানালেন কল্যাণ।
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছিল। তবে প্রতিবারই তাঁদের দাবি ছিল লাইভ স্ট্রিমিংয়ের। বারবার সেই দাবি নাকচ করা হলেও শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার করিয়েছিলেন। এখন কল্যাণ চাইছেন হাসপাতালেও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে ডাক্তাররা কী কাজ করছেন তা স্পষ্ট হবে।
হুগলির উত্তরপাড়ায় একটি রক্তদান শিবিরের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জুনিয়র ডাক্তারদের নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, ''নিজেরা হাসপাতালে কাজ করবে না, রোগীদের বড় বড় নার্সিংহোমে পাঠিয়ে দেবে। আমি সরকারের কাছে আবেদন করব হাসপাতালে সব লাইভ স্ট্রিমিং করুন৷ কোন ডাক্তার কী কাজ করছেন, কোন রোগীর কী চিকিৎসা করছেন, তা যেন সব আমরা দেখতে পাই। এমনকী রোগীর পরিবারও দেখতে পান।''
ডক্টরস ফ্রন্টের পাল্টা তৈরি সংগঠন জুনিয়র ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই রোগী পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে নিশানা করেছে অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদারদের। কল্যাণও ডাক্তারদের আক্রমণ করে বলেছিলেন, 'একটা আন্দোলন থেকেই ৫ কোটি টাকা তুলে নিলেন। ক্ষমতায় এলে তো দেশ বিক্রি করে দেবেন!' এবার ফের তাঁদের বিঁধলেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, ''কোনও সিনিয়র ডাক্তার এই পথে যায়নি। তাঁরা জানে মানুষের পরিষেবা তাঁদের কাছে বড়। হঠাৎ করে কয়েকজন ছেলেমেয়ে শুধু বিপ্লব আরম্ভ করল।''
আরজি করের আন্দোলন থেকে রাজ্য সরকারেরও বিস্তর সমালোচনা করা হয়। এই ইস্যুতে কল্যাণ বলেন, কেউ কেউ ভেবেছিল নাচ-গান করলে, রাস্তায় ছবি আঁকলেই ১৪ তলায় উঠে সরকার গঠন করে দেবে! এসব হয় না।'' এক্ষেত্রে তাঁর নিশানায় রয়েছে বিরোধী দলগুলিও। তৃণমূল সাংসদের কথায়, পশ্চিমবাংলায় আর অন্য কোনও রাজনৈতিক দল নেই। সিপিএমকে কেউ কেউ দেখতে পান কোথাও। আর বিজেপির আরও হাল খারাপ। ২০২৬ সালে বিজেপির কোনও বিরোধী দলনেতা থাকবে না, দাবি করেছেন কল্যাণ।