বিরোধীদের অভিযোগ, কলেজগুলিতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের চক্র চলছে। আর তার জন্যই কসবার কলেজের মতো ঘটনা আগামী দিনে বাড়তে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 July 2025 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজের (Kasba Law College) ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিনজন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা (TMCP)। এদের মধ্যে একজন আবার কলেজেরই অস্থায়ী কর্মী। ধৃতের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছিল, তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। দাবি, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই ধৃত কলেজে চাকরি পেয়েছিল। এবার একই অভিযোগ উঠল কাকদ্বীপ কলেজে (Kakdwip College)।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ কলেজে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে অভিযোগ। এমন ৭ জন শাসক দলের যুব নেতা-কর্মীর বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন খোদ স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ও কলেজ পরিচালন সমিতির চেয়ারম্যান মন্টুরাম পাখিরা।
তিনি জানান, ২০২২ সালে এই নিয়োগ হয়েছিল। ন্যাক মূল্যায়নের কাজের সময় কর্মীর অভাবে গভর্নিং বডির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই অস্থায়ী ভিত্তিতে কয়েকজনকে নেওয়া হয়। তবে কোনও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা হয়নি বলে কার্যত মেনে নিয়েছেন বিধায়ক নিজেই। তাঁর কথায়, ‘‘অস্থায়ী ভিত্তিতে নেওয়া, নো ওয়ার্ক নো পে’র ভিত্তিতে। তাই স্থায়িত্বের প্রশ্নই নেই।’’
কলেজের অধ্যক্ষ বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে বলেন, “আমি ২০২১ সালে কলেজে যোগ দিই। তার আগেই গভর্নিং বডি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিছু ক্যাজুয়াল স্টাফ নেওয়ার। পরে প্রয়োজন দেখে আমিও তাতে সম্মতি দিই। তবে আমি কাউকে নিয়োগপত্র দিইনি।” এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে এক অস্থায়ী কর্মী এবং TMCP নেতা বলেন, তারা সাতজন ২০২২ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তৃণমূলের তরফে তাদের নাম পাঠানো হয়েছিল। পরে ইন্টারভিউ হয়েছিল।”
বিরোধীদের অভিযোগ, কলেজগুলিতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগের চক্র চলছে। আর তার জন্যই কসবার কলেজের মতো ঘটনা আগামী দিনে বাড়তে পারে। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতর এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে শিক্ষা মহলে কসবা থেকে কাকদ্বীপ —ক্রমাগত এই ধরনের ঘটনায় ফের শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রশ্ন উঠে আসছে।