
শেষ আপডেট: 23 January 2024 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুব্রত মণ্ডল বোলপুরে নেই। তিহাড় জেলে রয়েছেন। এই প্রথম তাঁকে ছাড়া বীরভূমে বড় ভোটে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার আগে মঙ্গলবার সাংগঠনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে জেলার নেতাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিনের বৈঠক থেকে পরিষ্কার যে, বীরভূমে এখনও অনুব্রতকে ‘মিস’ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে জেলার নেতাদের অনুব্রতই বকেঝকে বা ভালবেসে রাখতেন। এদিন মমতাকেই সেটা করতে হয়। বীরভূমে জেলা পরিষদের সভাধিপতি হলেন কাজল শেখ। অনুব্রত স্বমহিমায় থাকাকালীন কাজলকে এক প্রকার কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তার পর অনুব্রত গ্রেফতার হতেই কাজল হাত পার ঝেড়ে বেড়ে ওঠার চেষ্টা করেন। এদিনের বৈঠকে সেই কাজলকে একটু বকুনিই দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, বৈঠকে কাজলকে মমতা বলেন, তুমি কত বড় নেতা হয়েছ যে দল ও সরকার এক করে দিয়েছ। ৯ জনের কোর কমিটি তৈরি করে দিয়েছিলাম। এখন শুনছি তুমি একা নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করছ। তোমাকে সংগঠন দেখতে হবে না। কোর কমিটি ছোট করে দিচ্ছি। তুমি জেলা পরিষদের কাজটা মন দিয়ে করো।
কোর কমিটি থেকে কাজল শেখকে এদিনই বাদ দিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কোর কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে দুই সাংসদ শতাব্দী রায় ও অসিত মালকে। এর থেকে মনে করা হচ্ছে যে শতাব্দী ও অসিত দুজনকেই ফের প্রার্থী করা হবে। তাই সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে আপাতত অব্যহতি দেওয়া হল।
নতুন যে কোর কমিটি তৈরি করা হয়েছে তাতে রয়েছেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ রায়চৌধুরী, অভিজিৎ সিংহ এবং সুদীপ্ত ঘোষ।
অনুব্রত মণ্ডল বীরভূমের জেলা সভাপতি থাকাকালীন গোষ্ঠী কোন্দলের প্রশ্নই ছিল না। কারও সাহসও ছিল না টুঁ শব্দ করার। কারণ, গোষ্ঠী ছিল একটাই। তিনি অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর কথা মতো না চললে, গাঁজা কেস দিয়ে দেওয়ার মতো হুমকিও কেষ্ট মণ্ডল খোলাখুলি দিতেন। কিন্তু অনুব্রত জেলে ঢোকার পরই সমস্যা হচ্ছে।
তবে শতাব্দী রায় এদিন সাংবাদিকদের বলেন, ওসব কোনও গোষ্ঠী কোন্দল নয়। টুকটাক ব্যাপার। সব ঠিক আছে।