
শেষ আপডেট: 21 July 2022 06:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাত, তেলেঙ্গানা, অসম-সহ দেশের পাঁচটি বড় রাজ্য এই মুহূর্তে ভয়াবহ বন্যার কবলে। প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে উত্তর ও মধ্য ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যে। তেলেঙ্গানায় বন্যা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কার্যত বানচাল হয়ে গিয়েছে এ বছরের অমরনাথ যাত্রা। আচমকা বৃষ্টিতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের।
বন্যা কবলিত এলাকা সফরে গিয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও (K Chandrashekhar Rao) চলতি পরিস্থিতির জন্য চিনের দিকে আঙুল তুলেছেন। বলেছেন, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে (Cloud Blast) চিনের হাত আছে। তারা কৃত্রিম বৃষ্টির মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে ভারতের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চাইছে।
কেসিআরের এই বক্তব্য ঘিরে সমাজমাধ্যমে অনেকে যেমন মজামস্করা করছেন, বহু মানুষ বিষয়টি একেবারে উড়িয়েও দিচ্ছেন না। কারণ কৃত্রিম বৃষ্টি (Artificial Rain) নামানোর বৈজ্ঞানিক কৌশল যেমন জলভাত, তেমনই ভারতে মেঘভাঙা বৃষ্টিপাতের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই ঘটেছে চিন সীমান্ত এলাকায়।
সরকারি সূত্রে খবর, গত বছর চল্লিশের মধ্যে প্রায় তিরিশবার মেঘ ভেঙে বৃষ্টিপাত ঘটেছে ভারতে। এরমধ্যে বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে জন্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ, অরুণাচল প্রভৃতি রাজ্যে।
প্রাকৃতিক কারণেই মেঘভাঙা বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবার কৃত্রিম বৃষ্টিপাতও মূলত মেঘপুঞ্জকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। বলা হয়, ২০০৮-এ চিন সে দেশের অলিম্পিক শুরুর দিন দুই আগে বেজিংয়ে কৃত্রিম বৃষ্টি করিয়েছিল। উদ্বোধনের দিন বৃষ্টিপাত ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ করেছিল তারা। বিভিন্ন যুদ্ধেও শত্রুপক্ষের সেনা সমাবেশ, যুদ্ধ পরিকল্পনাকে বানচাল করতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের নজির রয়েছে।
কীভাবে মেঘপুঞ্জকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত করানো হয়? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, পটাসিয়াম আয়োডাইড, সিলভার আয়োডাইড এবং ড্রাই আইস বিমান থেকে মেঘপুঞ্জের উপর ছড়িয়ে দিলে কিছুক্ষণ পর সেই মেঘ থেকে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
২০-২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঘণ্টায় ১০০ মিলি মিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘভাঙা বৃষ্টি বলে থাকে আবহাওয়া দফতর। ২০১৩ সালে উত্তরাখণ্ডে এমনই বৃষ্টির কারণে হাজার পাঁচেক মানুষ মারা যান। অসম-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বন্যা প্রতি বছর লেগেই আছে।
বৃষ্টি নেই! কাঠফাটা গরমের জন্য ইন্দ্রকে দায়ী করলেন কৃষক, দেবরাজ শুনলেন কি