
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
শেষ আপডেট: 20 January 2025 17:30
রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত সূত্রে ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রায় ১ বছর ৩ মাস জেল হেফাজতে থাকার পর অবশেষে সেই তিনি প্রাক্তন খাদ্য ও বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সদ্য জামিন পেয়েছেন। তার পর এক সপ্তাহ না ঘুরতেই সোমবার বিধানসভায় এলেন বালু।
গত বুধবার জামিন পেয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। জেল হেফাজতে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সোমবার প্রথম দর্শনে যেন তাঁকে চেনা মুশকিল। এমনিতেই তাঁর ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে। জেলে বছর খানেক থাকার পর শরীর অনেকটাই ভেঙে গেছে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, ৭৮ কেজি থেকে ওজন কমে হয়েছে ৫৪।
এদিন বিধানসভায় ঢুকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অবশ্য জ্যোতিপ্রিয় কিছুটা ইতস্তত করেন। তাঁর ছবি তুলতে আপত্তি জানান। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা এখনও বিচারাধীন বলে কোনও কথা বলতে চাননি। তবে জ্যোতিপ্রিয়র ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, ১ বছর ৩ মাসের বকেয়া বেতন তুলতে বিধানসভায় পৌঁছেছেন তিনি। এ ব্যাপারে কিছু সই সাবুদ করতে হবে তাঁকে।
বিধানসভায় সরকারি দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ। উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলার রাজনীতিতে নির্মল ঘোষ ওরফে নান্টু ঘোষ দীর্ঘদিন দিন ধরে জ্যোতিপ্রিয়র বন্ধু। সূত্রের খবর, বালু জামিন পাওয়ার পর গত কদিনে তাঁর সল্টলেকের বাসভবনে যাঁরা দেখা করতে গিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে নির্মল ঘোষ ছিলেন অন্যতম। এছাড়াও ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক ও হাবড়া বিধানসভা এলাকার স্থানীয় নেতারা গিয়ে বালুর সঙ্গে দেখা করেছেন ও তাঁর শরীর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। সম্ভবত নির্মল ঘোষের পরামর্শে বালু এদিন বিধানসভায় পৌঁছন।
এদিন বিধানসভায় পৌঁছেও জ্যোতিপ্রিয় প্রথমে নির্মল ঘোষের কক্ষে গিয়ে বসেন। সেখানে চা বিস্কুটের সঙ্গে অনেক দিন পর খানিক আড্ডা হয়। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে এদিন ফের ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। কারণ, তাঁর কিডনিতেও সমস্যা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গ্রেফতার হওয়ার সময়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী। সেই সুবাদে বিধানসভায় তাঁর একটি ঘরও রয়েছে। তবে জ্যোতিপ্রিয় গ্রেফতারের পর থেকে সেই ঘরে তালা লাগিয়ে রেখেছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ। ঠিক যেমন বিধানসভায় মন্ত্রী হিসাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে ঘরে বসতেন সেই ঘরে তালা লাগানো রয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় এখন মন্ত্রী নন। তাই বিধানসভায় সেই ঘরে গিয়ে বসার তাঁর অধিকার নেই। তবে এখনও তিনি হাবড়ার বিধায়ক। তাই হতে পারে ফেব্রুয়ারি মাসে বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশনে তিনি পুরোদস্তুর সভায় যোগ দেবেন।
বাংলায় তৃণমূল সরকার গঠনের সময় থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় প্রভাবশালী নেতা ছিলেন বালু মল্লিক। একে খাদ্য মন্ত্রী, সেই সঙ্গে আবার জেলা সভাপতি। কিন্তু একুশ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় মেয়াদে তাঁর ক্ষমতা কিছুটা খর্ব করা হয়। জেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য তাঁর আর ছিল না। দফতরের ওজনও কমে যায়। খাদ্য দফতর থেকে পাঠানো হয় বন দফতরে। এদিন জ্যোতিপ্রিয়র অ্যাপিয়ারেন্সে পরিষ্কার যে কাম ব্যাকের চেষ্টায় রয়েছেন তিনি। সোমবার বিধানসভায় আসার মধ্যে দিয়ে যা শুরু করে দিলেন।