
শেষ আপডেট: 12 December 2023 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি লিপস এন্ড বাউন্স নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
আদালতের নির্দেশ মেনে আগেই ইডিকে কোম্পানির সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন অভিষেক। ইডির তরফে আদালতে সেই নথি জমা দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার ইডির কাছে আদালতে বিচারপতি জানতে চান, “এত ডকুমেন্ট এল কীভাবে? কিছু না থাকলে এত ডকুমেন্ট আসে কী? সেগুলি খতিয়ে দেখেছেন?”
একই সঙ্গে বিচারপতি তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীকে বলেন, “কোথা থেকে এল এত টাকা, এর উৎস কী, সেটা দেখেছেন? সব সম্পত্তি ২০১৪ পরে কীভাবে? এত অল্প সময়ে কীভাবে হল? আবার নিয়োগ দুর্নীতিও একই সময়। কোনও যোগ সূত্র আছে কি?”
ইডির আইনজীবী আদালতকে জানান, “সাংসদ জানিয়েছেন কোন কোম্পানি, সেখানে কী প্রস্তুত করে ইত্যাদি। জমা দেওয়া তথ্য আমরা খতিয়ে দেখছি।”
এদিন ইডির তরফে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। এরপরই সেই রিপোর্ট দেখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে একের পর এক প্রশ্ন করেন বিচারপতি। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করারও নির্দেশ দেন। বিচারপতি বলেন, “তদন্ত দ্রুত করুন। অনির্দিষ্টকালের জন্য কাউকে গ্রেফতার করে রাখা যায় না।”
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার একক বেঞ্চ এবং বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বে়ঞ্চ তদন্তে ‘নজরদারি’র পরিবর্তে ‘তদারকি’ করছে বলে সম্প্রতি শীর্ষ আদালতে অভিযোগ এনেছিলেন অভিষেকের আইনজীবী।
তাঁর বক্তব্য, আদালত তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকী অভিষেক, তাঁর পরিবার এবং লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির বিরুদ্ধে ইডিকে নির্দিষ্ট করে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে আদালত থেকে। অল্প সময়ের ব্যবদানে ১০ বছর আগের নথি চাওয়া হচ্ছে।
শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ অবশ্য অভিষেকের আইনজীবীর আনা আর্জি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের স্বার্থে ইডি যে তথ্য এবং নথি চাইবে তাকে উপেক্ষা করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ইডির ম্যারাথন জেরা শেষে বাইরে বেরিয়ে অভিষেক বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আমি এখনও লিপস অ্যান্ড বাউন্সের সিইও। শিক্ষা দুর্নীতির ১০ পয়সা ওই কোম্পানিতে ঢুকেছে, তা ইডি প্রমাণ করুক। চ্যালেঞ্জ করছি, কোনও দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারবে না সেন্ট্রাল এজেন্সি।”