.webp)
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 27 September 2024 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন শুধু রাজ্যের স্বাস্থ্য কাঠামোর আমূল বদল আনতে সাহায্য করছে তাই নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের শিরদাঁড়ার চিকিৎসাও করে দিয়েছে। বক্তা টলিউডের অভিনেতা- চিত্র পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।
জাস্টিস ফর আরজি করের দাবিতে শুক্রবার সন্ধেয় ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহের নাগরিক কনভেনশনে হাজির হয়েছিলেন কৌশিক। সেখানেই তিনি একথা বলেন। একই সঙ্গে জানান, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন অনেক সন্দীপ ঘোষ রয়েছে।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, "সর্বত্র এই একটা সিস্টেম ঢুকে পড়েছে, শুধু থ্রেট কালচার নয়, একটা প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে যেখানে গণতন্ত্রের প্রবেশ করানো দুরূহ হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তারদের বলব, আপনারা ভাববেন না আপনারা শুধু একা বা চিকিৎসা জগতেই শুধু এই সমস্যাটা রয়েছে। সন্দীপ ঘোষ সমাজের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে রয়েছে। আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন সন্দীপ ঘোষদের দেখতে পাই। বেশ কিছু সন্দীপ ঘোষ শ্রীঘরে রয়েছে। আরও সন্দীপ ঘোষ রয়েছে। বেরবে, বেরতো বাধ্য।"
মনে করিয়েছেন, যখন সমাজের ছোট্ট শিশু থেকে বয়স্করা একসঙ্গে পথে নেমে উই ডিমান্ড জাস্টিস বলে, যখন ডাক্তারদের হাসপাতাল ছেড়ে রাস্তায় বসতে হয়, এবং দিনের পর দিন বসে থাকতে হয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে ডুর্য়াস থেকে সাগর মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে আসতে শুরু করে উই ডিমান্ড জাস্টিস বলতে তখন বুঝতে হবে সমাজের পরিস্থিতি কিন্তু ঠিক নেই।
কৌশিকের কথায়, "এখন ডাক্তারদের আন্দোলন প্রতিটি মানুষের ভিতরে জমে থাকা নিজের নিজের পেশা্র যে অভিযোগগুলো সেগুলো উস্কে দিয়েছে। তাঁরা হঠাৎ ভাবতে শুরু করেছেন সত্যি তো ঘুরে দাঁড়ানো যায়। সত্য়ি তো উঠে দাঁড়িয়ে কথা বলা যায়। না হলে এই ক'জন জুনিয়র ডাক্তার প্রশাসনের এতকিছু ওলটপালট কীভাবে করে দেয়? এতটা ক্ষমতা জেনারেট করা যায়?"
জবাবও দিয়েছেন নিজেই। টলি অভিনেতা-পরিচালকের কথায়, "একটা বাড়ি তৈরির ৮ থেকে ১০ বছর পর রঙ হয়। অর্থাৎ ময়লা জমতে দেওয়া হয়, তারপর পুরোটা ঝেড়ে পুঁছে পরিষ্কার করা হয়। সেই সাফাইয়ের সময় এসেছে।"
মানুষ যে শুধুমাত্র একটা ব্যালট পেপার নয়, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন থেকে সেটা মানুষ আজ নতুন করে উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে মনে করেন কৌশিক।
আগামী দিনেও এভাবেই শিরদাঁড়া সোজা রাখার কথা মনে করিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেছেন, "নানা জিনিসের সঙ্গে যুঝতে যুঝতে অনেক কিছু বেঁকে গেছে, সত্যি মেরুদণ্ডের ওপর আঘাত পরে। আপনারা ইতিহাসে তৈরি করেছেন। যে উচ্চতায় ডাক্তারদের ইমেজ নিয়ে গেছেন তা অকল্পনীয় ঐতিহাসিক। কর্পোরেট সিস্টেমে যখন ঢুকে পড়বেন তখনও এই ঐতিহাসিক মেরুদণ্ডগুলোকে আগলে রাখতে হবে।"
বিচারের ক্ষেত্রে কেন ধৈর্য্য ধরতে হবে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন কৌশিক। বলেছেন, "হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভিডিওতে দেখতে পাওয়া সত্ত্বেও কাসভের (আজমল কাসভের) ফাঁসি হতে ৫ বছর লেগেছিল। তাই আমরা আর একটু ধৈর্য্য ধরব, যাতে বিচার হয়। বিচারে হয়তো এক দুজনের ফাঁসি হয়ে যাবে। বাকিদেরও যেন মর্মান্তিক শাস্তি হয়, সেটা দেখতে হবে।"