
নিরাপত্তার কাজ নিয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি জুনিয়র ডাক্তারদের
শেষ আপডেট: 10 October 2024 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষষ্ঠী রাতে তড়িঘড়ি অনশনরত ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য চিঠি দিয়ে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। বৈঠক দু'পক্ষ মুখোমুখি হতে কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। বুধবার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এবার মুখ্যসচিবকে চিঠি দিলেন তাঁরা।
সেখানে তাঁরা জানতে চাইলেন, তাঁদের দাবিগুলির মধ্যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে রয়েছে, সে কাজ কত দূর এগিয়েছে। সরকারি ভাবে তা তাঁদের জানানো হোক।
বুধবার প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্যভবনে আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। কিন্তু সমাধান সূত্র বের হয়নি।
বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ''সরকারের সদিচ্ছা থাকলে তবে তো সমাধান সূত্র বের হবে। আমাদের সহকর্মীরা টানা ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশনে রয়েছেন, জল ছাড়া কিছু খাননি অথচ সরকার বলছে, পুজো চলছে, আন্দোলন তুলে নাও। আমরা কথা দিচ্ছি, পুজোর পর সব দাবি পূরণ করব।"
আন্দোলনকারীরা আরও বলেছিলেন, "আমরা আশা করেছিলাম, বৈঠক থেকে কোনও সমাধান সূত্র বের হবে। কিন্তু আজকের বৈঠকে সদর্থক আলোচনা তো দূরে থাক, প্রশাসনের তরফে লিখিত প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি।"
মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ বলেছিলেন, "রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যে সবধরণের দাবি পূরণের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু রাতারাতি সব কিছু একসঙ্গে পূরণ করা তো সম্ভব নয়। আমাদেরও কিছু সময় দিতে হবে। আশা করব, আন্দোলনকারীরাও সদর্থক ভূমিকা পালন করবেন। এদিনও আমরা ওদের অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি।"
প্রসঙ্গত, স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত নির্যাতিতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে নারায়ণস্বরূপ নিগমকে অপসারণ করা, হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা-সহ ১০ দফা দাবিতে গত শনিবার থেকে ধর্মতলায় অনশন শুরু করেছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা।
যদিও গত সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন, ডাক্তারদের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েই দেখছে সরকার। 'রাত্তিরের সাথী' প্রকল্পে ইতিমধ্যে ১১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৪৫ শতাংশের বেশি সিসিটিভির কাজ হয়ে গেছে। এছাড়া ওয়াশরুম সংক্রান্ত ৬৫ শতাংশ কাজ এগিয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি এও বলেন, ১৫ অক্টোবর থেকে পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে। সব ঠিক হলে প্যানিক বটন-এর কাজ শুরু হবে পয়লা নভেম্বর থেকে। পাল্টা হিসেবে সেদিনই আন্দোলনকারীদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, দাবি পূরণে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে হবে।