মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটক ঘটনায় এনআইএ-র ১২টি এফআইআর, আইনি জটিলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠছে।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 8 April 2026 23:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়ে কলকাতার সিবিআই বিশেষ আদালতে মোট ১২টি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে এনআইএ। বুধবার রাতে এই মামলাগুলি দায়ের করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।
এনআইএ সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— খুনের চেষ্টা, অন্যায়ভাবে কাউকে আটকে রাখা, বেআইনি জমায়েত এবং সরকারি কর্মীদের ওপর হামলা চালানো । এছাড়া সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, কর্মীদের মারধর ও আঘাত করা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো অভিযোগও আনা হয়েছে । একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সড়ক আটকে রেখে বেআইনি অবরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের ধারাও এই মামলাগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে। স্বচ্ছ ও ভয়মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের 'জিরো টলারেন্স' নীতির মতোই এই আইনি পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে ।
সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে ২৫ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে এনআইএ। এই ২৫ পাতার রিপোর্টে আক্রান্ত বিচারকদের বয়ানের পাশাপাশি মোথাবাড়ি অঞ্চলের ২২ জন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) জবানবন্দি গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেও বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে অনুমান।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠিক কতটা ছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরেই তা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শীর্ষ আদালতের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।