'জীবনকৃষ্ণর চাকরি বিক্রির দোকান চালাতেন ১৫ এজেন্ট'! দাবি ইডি’র

জীবনকৃষ্ণ সাহা ও তার ছায়াসঙ্গী রাজেশ ঘোষ।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে (SSC Recruitment Corruption Case) ফের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডি (ED ) সূত্রে খবর, তৃণমূল বিধায়ক (Tmc Mla) জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jibankrishna Saha) চাকরি বিক্রির জাল বিস্তার করেছিলেন মুর্শিদাবাদ ছাড়াও দুই দিনাজপুর, মালদহ ও বীরভূমে। বড়ঞার এই বিধায়ক নাকি অন্তত ১৫ জন এজেন্টকে কাজে লাগিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার জন্য। ওই এজেন্টরা আবার নিয়েছিল প্রায় ৫০ জন সাব-এজেন্ট। এককথায়, চাকরি বিক্রির “সাম্রাজ্য” খুলেছিলেন তিনি।
ইডি’র দাবি, বিধায়ক হওয়ার অনেক আগে থেকেই এই ব্যবসা চালাতেন জীবনকৃষ্ণ। তদন্তকারীরা বলছেন, ২০১৯ থেকে ২১ সালের মধ্যে তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ঢুকেছিল। সেই টাকা চাকরি বিক্রির মাধ্যমেই তোলা হয়েছে বলে ধারণা কেন্দ্রীয় এজেন্সির। বিধায়ক হওয়ার পর সম্পত্তির বহর আরও বেড়ে গিয়েছে। ২০১৯-২০ থেকে ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে একের পর এক বেনামি সম্পত্তি কেনা হয়েছে ঘনিষ্ঠদের নামে।
এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জীবনকৃষ্ণর বাবা বিশ্বনাথবাবুর মন্তব্য। তাঁর সাফ কথা, এমএলএ হওয়ার পর থেকেই ছেলের বিপুল সম্পত্তি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, দ্বিতীয়বার গ্রেফতারের পর জীবনকৃষ্ণর গাড়ির চালক রাজেশ ঘোষকে ঘিরে নয়া কৌতূহল। মাত্র ২৭ বছরের রাজেশই নাকি হয়ে উঠেছিলেন বিধায়কের বাড়ির ‘নিয়ন্ত্রক’। আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে কে দেখা করতে পারবে, সবকিছুর হর্তাকর্তা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ইডি ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়িতে দু’দফা তল্লাশি চালিয়ে নথি ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে। বর্তমানে রাজেশের খোঁজ মিলছে না।
তদন্তকারীদের ধারণা, রাজেশকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই চাকরি বিক্রির কারবারের অন্দরের আরও অজানা তথ্য সামনে আসবে।