দ্য ওয়াল ব্যুরো : যা করেছি বেশ করেছি। জেরায় এমনই মনোভাব দেখিয়েছে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ওপরে আক্রমণকারী ছেলেটি। পুলিশের বক্তব্য, অনুশোচনার লেশমাত্র নেই তার মধ্যে। সে জানিয়েছে, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের খবর দেখে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটস অ্যাপে নানা লোকের লেখা পড়ে প্রভাবিত হয়েছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল শাহিনবাগে হামলা চালানো।
পুলিশ জানিয়েছে, ১৭ বছর বয়সী ছেলেটি শাহিনবাগে অবস্থানকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। সেখানে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান চলছে। কয়েকশ মহিলা দিল্লির ঠান্ডা উপেক্ষা করে বসে আছেন রাস্তায়। অনেকে তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে এনেছেন। অবস্থানের ফলে দিল্লি ও নয়ডায় গাড়ি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বন্দুকবাজের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের জেওয়ারে। সে বাড়িতে বলেছিল, স্কুলে যাচ্ছি। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার বদলে সে বাস ধরে চলে আসে দিল্লিতে। তার আগে সে এক বন্ধুর থেকে দেশি পিস্তল ধার নিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ছেলেটি জানত না শাহিনবাগ কোথায়। সে এক অটোতে ওঠে। অটোচালক তাকে জামিয়া মিলিয়া ইউনিভার্সিটির কাছে নামিয়ে দেন। তাকে বলেন, শাহিনবাগের রাস্তা বন্ধ আছে। সেখানে যেতে হলে এখানেই নামতে হবে।
জামিয়ার কাছে নেমে ছেলেটি দেখে, সেখানে একটা মিছিল বেরোতে চলেছে। সে ওই অঞ্চলেই অপেক্ষা করতে থাকে। ঘণ্টাখানেক বাদে সে ফেসবুক লাইভে যায়। তারপর ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে ও পিস্তলটি বার করে। বিক্ষোভকারীদের বলে, "ইয়ে লো আজাদি"। এই বলে গুলি চালায়। জামিয়ার মাস কমিউনিকেশনস বিভাগের পড়ুয়া সাদাফ ফারুক আহত হন ওই গুলিতে। হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
কিছুদিন আগেই দিল্লির একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর স্লোগান তুলেছিলেন, “দেশকি গদ্দারো কো…”, তাতে জনতা গলা মিলিয়েছিল, ” গোলি মারো শালো কো।” এর পরেই এভাবে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল প্রকাশ্য রাজপথে।