জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শান্তা দেবী রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকমাস ধরে তাঁকে বাড়ির বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ জাগে প্রতিবেশীদের মনে। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করলে ভিতর থেকে উত্তর আসে— "আমি স্বেচ্ছামৃত্যু চাই, কেউ বিরক্ত করলে আত্মহত্যা করব।"

শেষ আপডেট: 18 March 2026 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহরের শান্তিপাড়া এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখা এক মহিলাকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করল পুলিশ। 'স্বেচ্ছামৃত্যু'র (Euthanasia) দাবি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে কার্যত অন্ধকার ঘরে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিলেন ৪৮ বছর বয়সী শান্তা হোম।
যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনাটি
জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শান্তা দেবী রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকমাস ধরে তাঁকে বাড়ির বাইরে দেখা যাচ্ছিল না। তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ জাগে প্রতিবেশীদের মনে। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করলে ভিতর থেকে উত্তর আসে— "আমি স্বেচ্ছামৃত্যু চাই, কেউ বিরক্ত করলে আত্মহত্যা করব।" আতঙ্কিত বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ খবর দেন স্থানীয় কাউন্সিলার পৌষালি দাস ও পুলিশকে। অবশেষে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে শান্তা দেবীকে উদ্ধার করে।
একাকীত্বই কি কাল হল?
উদ্ধারের সময় দেখা যায়, দিনের পর দিন না খেয়ে শান্তা দেবীর শরীর কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শুধু এটুকুই জানিয়েছেন:"আমার বাবা-মা নেই, কেউ নেই। আমি আর বাঁচতে চাই না।"
বাবা প্রমোদচন্দ্র হোম মারা গেছেন বহু বছর আগে। ২০১৪ সালে মা লক্ষ্মী হোমের মৃত্যু হয়। অবিবাহিত শান্তা দেবীর কোনো ভাই-বোন নেই, আত্মীয়রাও বিশেষ খোঁজ নিতেন না।
টিউশন পড়িয়ে কোনোমতে জীবন চালানো এই মহিলা ইদানীং সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন সমাজ থেকে। বর্তমানে তাঁকে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও গুরুত্ব সহকারে দেখছেন চিকিৎসকরা।