
শেষ আপডেট: 2 October 2022 08:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৬৬৬ সালের কথা৷ পথের যাবতীয় কাঁটা সরিয়ে দিল্লির তখতে তখন বসে আছেন ঔরঙ্গজেব। হিন্দুদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে জিজিয়া কর। ধর্মরক্ষার জন্য সেই সময় উজ্জয়িনী থেকে জ্ঞাতি-পরিজনদের নিয়ে লাল মাটির দেশ পুরুলিয়ায় পালিয়ে আসেন রাজা জয়সিংহ।
পুরুলিয়ায় তখন মুন্ডাদের একচ্ছত্র বাস। এই মুন্ডা উপজাতির সর্দার ছিলেন খামার মুন্ডা। খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজা জয়সিংহের এইভাবে পুরুলিয়ায় উড়ে এসে জুড়ে বসাকে মেনে নিতে পারেননি খামার মুন্ডা। তাই রাজার বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই চোরাগোপ্তা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতেন। অন্যদিকে রাজা জয়সিংহও চাইছিলেন পাকাপাকিভাবে পুরুলিয়া দখল করতে। একসময় দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। শেষমেশ রাজা জয়সিংহ খামার মুন্ডাকে হত্যা করে পুরুলিয়া দখল করেন। রাজার নামানুসারে জায়গার নাম হয় জয়পুর।
আদিবাসী মুন্ডারা একটি খাঁড়াকে ইষ্টদেবী হিসেবে পূজা করতেন। জয়লাভের পর সেই অস্ত্ররূপিনী দেবীকে ছিনিয়ে আনেন রাজা জয়সিংহ। সেই খাঁড়াটিকে নিজের প্রাসাদে কলা বউ হিসেবে পুজো শুরু করেন। এর বহু বছর পরে এই বংশের সপ্তম রাজা কাশীনাথ সিংহের আমলে দুর্গাপুজোর দিন ঘটে যায় একটি বড় অঘটন। আচমকা আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে যায় দেবী দুর্গার মাটির মূর্তি৷ দুর্ঘটনায় ভীত রাজা কাশীনাথকে স্বপ্নে নতুন প্রতিমা গড়ার আদেশ দেন মা দুর্গা স্বয়ং। রাজা মানত করেন, সোনার প্রতিমা তৈরি করে তাতে রূপোর চালচিত্র লাগিয়ে দেবীর পুজো করবেন। (Jaipur Rajbari Durga)
যেমন কথা তেমন কাজ। সোনার বিগ্রহ তৈরির জন্য সুদূর বারাণসী থেকে ডেকে আনা হয় সোনার কারিগর। এক কেজি সোনা দিয়ে তৈরি হয় দ্বিভুজা দুর্গা মূর্তি আর প্রায় ৬০ কেজি রুপো দিয়ে দেবীর চালচিত্র তৈরি করান রাজা৷ দশভুজা অসুরদলনী নয়, দেবীর এখানে শান্তরূপ। দুর্গাপুজোর সময় দেবীর এই দ্বিভুজা সোনার বিগ্রহই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুজো পাচ্ছে জয়পুর রাজবাড়িতে (Jaipur Rajbari Durga)। পুজো চলাকালীন দেবীর সামনে পশুবলি হত এককালে, তবে ইদানীং বলিপ্রথা বন্ধ আছে কাশীপুর রাজবাড়িতে।

১৯৭০ সাল নাগাদ আচমকা ডাকাত হানা দেয় রাজবাড়িতে৷ তারা সোনার মূর্তির হদিশ না পেয়ে মন্দিরে রাখা মায়ের সমস্ত অলঙ্কার ও অন্যান্য দামি সামগ্রী নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরই টনক নড়ে রাজপরিবারের৷ তৎকালীন জেলা পুলিশের উদ্যোগে রাজবাড়ির সোনার বিগ্রহের নিরাপত্তায় চালু হয় বিশেষ ব্যবস্থা (Jaipur Rajbari Durga)। ঠিক হয়, পুজোর চার দিন ছাড়া বাকি ৩৬১ দিন ব্যাঙ্কের লকারে থাকবে বিগ্রহ। আজও পুজোয় চারদিনের জন্য রাজপ্রাসাদে ফেরেন মা দুর্গা। দশমী নিশিতে দর্পণে নিরঞ্জনের পর ফিরে যান ব্যাঙ্কের নিরাপদ ভল্টে। বর্তমানে এ ভাবেই পুজো পাচ্ছেন জয়পুরের দেবী দুর্গা।