
শেষ আপডেট: 24 December 2023 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাহুকে নিয়ে শনিবার থেকে ফের রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে উঠল।
রবিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নাটক যেন শেষই হচ্ছে না। বাংলার রাজ্যপাল তথা আচার্য সিভি আনন্দ বোসের আপত্তি সত্ত্বেও সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তাতেই ক্ষুণ্ণ হয়ে শনিবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বুদ্ধদেব সাহুকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেন আচার্য। পরক্ষণেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর বুদ্ধদেব সাহুকে যাদবপুরের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেয়!
রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে রবিবারের জন্য বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয় বুদ্ধদেব সাহুকে। সেইসঙ্গে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ১৭ অগস্ট বুদ্ধদেবকে উপাচার্য পদে বসানো হয়েছিল। উপাচার্যের কর্তব্য পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। শনিবার আচমকাই তাঁর ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য একক ভাবে এ ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
যাদবপুরের সমাবর্তন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সমাবর্তন অনুষ্ঠানের যাবতীয় সিদ্ধান্তের জন্য 'কোর্ট' বৈঠক করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সেই বৈঠকের জন্য রাজ্যপাল তথা আচার্যের অনুমতির প্রয়োজন হয়। আনন্দ বোস কোর্ট বৈঠক করার অনুমতি দেননি।
তবে রাজ্যপালের অনুমতি না পেলেও সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তা ভালভাবে নেয়নি রাজভবন। শনিবার রাতেই রাজভবন থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, বুদ্ধদেবকে উপাচার্য পদকে সরানোর কথা। কিন্তু রবিবার সকালেই দেখা গেল, বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হয়েছেন বুদ্ধদেববাবু। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আগে বৈঠকেও বসেন তিনি।
সমাবর্তনের জন্য যে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে, সেই মঞ্চে বুদ্ধদেব সাহুর জন্য চেয়ার রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁকে যাদবপুর 'বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য' হিসেবে উল্লেখ করা রয়েছে। বুদ্ধদেবের পাশেই রাখা হয়েছে আচার্যের আসন। তবে আনন্দ বোস আসবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাজভবন সূত্রে খবর, রবিবার যাদবপুরে যাবেন না আচার্য। তিনি যদি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে না যান, তবে অনুষ্ঠানে কিছু কাটছাঁটও হতে পারে। যে বিশেষ ডিগ্রি আচার্য তুলে দেন কৃতীদের হাতে, সেই অনুষ্ঠান বাদ পড়তে পারে বলেও সূত্রের খবর। সেইসব নিয়েই আলোচনায় বসেছেন বুদ্ধদেব সাহু।