দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস আতঙ্কে ৫০ হাজার নাগরিককে ঘরবন্দি করে ফেলল ইতালি। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে অন্তত এক ডজন শহরে। দিন কয়েক আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দু'জন ইতালীয় নাগরিক মারা যাওয়ার পরেই তাকে রুখতে উঠেপড়ে লেগেছে সে দেশের প্রশাসন। চিনের মতো অবস্থা যাতে না হয়, সে জন্যই এত কড়া আগাম সতর্কতা তাদের। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবে কি আদৌ করোনাভাইরাসকে রোখা সম্ভব হবে? নাকি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই সার হবে।
ইতালির সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর ইতালির দুই শহর ভেনেটো এবং লোম্বার্ডিতে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসের আক্রমণে। এ ছাড়াও অন্তত ৮০ জনের দেহে সংক্রমিত হয়েছে করোনা-জীবাণু। এর পরেই অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উত্তর ইতালির একাধিক শহরে যাতায়াত নিষিদ্ধ করার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে শনিবার। বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল, কলেজ, দোকান, রেস্তরাঁ। কেবল জরুরি পরিষেবা মিলবে। চিনের উহানের মতো এই শহরগুলির বাসিন্দারাও গৃহবন্দি। সংখ্যাটা অন্তত ৫০ হাজার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দফায় দফায় জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ইতিমধ্যেই ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী ভিনসেঞ্জো স্পাদাফোরার ভেনিটো ও লোম্বার্ডির সমস্ত ম্যাচ বাতিলের কথা ঘোষণা করেছে। সিরিয়ে লিগের সূচি অনুযায়ী, রবিবার ইন্টার মিলান-সাম্পদোরিয়া, আটালান্টা-সাসুওলো এবং হেলাস ভেরোনা-ক্যালিয়ারির ম্যাচ ছিল। সবকটি ম্যাচই স্থগিত করা হয়েছে। কবে এই ম্যাচগুলি হবে সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানায়নি ইতালির ফুটবল ফেডারেশন। বাতিল হতে চলেছে ইতালির বিশ্ববিখ্যাত ফ্যাশন শো মিলান ফ্যাশন উইক। ভেনিস কার্নিভ্যালের নির্ধারিত সূচিও বাতিল হওয়ার পথে।
ইতালিতে যখন এমন আতঙ্ক চলছে, তখন করোনাভাইরাসে চিনে মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২০০। পিছিয়ে নেই দক্ষিণ কোরিয়া। শনিবার সেখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ থেকে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০। ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে প্রশাসন। বন্ধ হয়েছে জমায়েত।