
শেষ আপডেট: 7 March 2024 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চন্দ্রযান-৪ আসতে চলেছে। তৃতীয় চন্দ্রযাত্রার বিশাল সাফল্যের পরে চতুর্থবারও চাঁদ মুলুকে যাওয়ার ভাবনাচিন্তা করছে ইসরো। চাঁদ মামার বাড়িতে এবার যাবে চন্দ্রযান-৪, কিন্তু থাকবে না। মামারবাড়ির মায়া কাটিয়ে নুড়িপাথর-মাটি খামচে নিয়ে ফিরবে পৃথিবীতে। ফেরার সময় তৃতীয় চন্দ্রযানের বিক্রম-প্রজ্ঞানের খবরও আনবে।
ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ জানিয়েছেন, চন্দ্রযান-৪ মিশন হবে আরও বড়, আরও রাজকীয়। কারণ শুধু চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটিতে নেমেই গ্যাঁট হয়ে বসে থাকবে না, চাঁদের মাটি সঙ্গে নিয়ে ফিরবে পৃথিবীতে। ‘মামারবাড়ি ভারী মজা’ হলেও এবার আর চন্দ্রযানকে চাঁদে রেখে দেবে না ইসরো। ফিরিয়ে আনবে পৃথিবীতে।
চন্দ্রযান-৩-এর মূলত তিনটি অংশ ছিল। ল্যান্ডার, রোভার ও প্রোপালশন মডিউল। চন্দ্রযান-৪ এর থাকছে পাঁচটি অংশ-- প্রোপালশন মডিউল, ডিসেন্ডার মডিউল, অ্যাসেন্ডার মডিউল, ট্রান্সফার মডিউল, রিএন্ট্রি মডিউল। প্রত্যেকটির কাজ ভিন্ন।
চাঁদের কক্ষপথে ঢোকার আগে অবধি শক্তি জোগাহে চন্দ্রযানকে, ডিসেন্ডার মডিউলের কাজ হবে চন্দ্রযান-৩ এর বিক্রমের মতোই। ল্যান্ডার বিক্রমের মতোই চাঁদের বুকে পাখির পালকের মতো নামবে ডিসেন্ডার। চাঁদের মাটির নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পর সেটি ল্যান্ডারের অংশ থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীর পথ ধরবে।
১) প্রোপালশন মডিউল চন্দ্রযান-৩ অভিযানের মতোই। চন্দ্রযানকে পথ দেখাবে, চাঁদের কক্ষপথে ঢুকতে সাহায্য করবে। চন্দ্রযানকে চাঁদের পথ ধরিয়ে আলাদা হয়ে যাবে।
২) ডিসেন্ডার মডিউল চাঁদের মাটিতে ল্যান্ডারকে নামাতে ব্যবহার করা হবে। ঠিক যেভাবে চন্দ্রযান-৩ অভিযানের ক্ষেত্রে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’কে চন্দ্রপৃষ্ঠে পাখির পালকের মতো নামানো হয়েছিল, সেভাবেই চন্দ্রযান-৪ কে ‘সফট ল্যান্ডিং’ করাবে ডিসেন্ডার।
৩) অ্যাসেন্ডার মডিউলের কাজ হল চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাটি, পাথর সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা। চাঁদের মাটির নমুনা নিয়ে সেটি ল্যান্ডার থেকে আলাদা হয়ে যাবে। তারপর পৃথিবীর পথ ধরবে।
৪) ট্রান্সফার মডিউলের কাজ হবে অ্যাসেন্ডারের হাত শক্ত করে ধরা। চাঁদ মামার বাড়ি থেকে অ্যাসেন্ডারকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে ট্রান্সফার মডিউল। চাঁদের কক্ষপথের সব বাধা কাটিয়ে পৃথিবীর পথ ধরিয়ে অ্যাসেন্ডার থেকে আলাদা হবে ট্রান্সফার। তারপর চাঁদের মাটি এবং পাথরে ভর্তি ক্যাপসুলটি আবার অ্যাসেন্ডার থেকে আলাদা হয়ে যাবে।
৫) সব শেষে কাজে নামবে রি-এন্ট্রি মডিউল। অ্যাসেন্ডার মডিউল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া চাঁদের মাটি এবং পাথর ভর্তি ক্যাপসুলটিকে সযত্নে হাত ধরে পৃথিবীতে ফেরত আনবে এই মডিউল।
চন্দ্রযান-৪ এর উৎক্ষেপণ হবে দুই পর্যায়
পাঁচ খানা ভারী যন্ত্র নিয়ে উৎক্ষেপণ খুব জটিল হবে বলেই দুই পর্যায়ে চন্দ্রযান-৪ এর উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরো। প্রোপালশন মডিউল, ডিসেন্ডার মডিউল ও অ্যাসেন্ডার মডিউল নিয়ে উড়ে যাবে LVM3 রকেট। এই উৎক্ষেপণ চন্দ্রযান-৩ অভিযানের মতোই হবে।
বাকি দুটি মডিউলকে নিয়ে উড়বে ইসরোর আধুনিক PSLV রকেট। এতে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠানো হবে ট্রান্সফার মডিউল এবং রি-এন্ট্রি মডিউলকে। তবে কোনটির উৎক্ষেপণ আগে এবং কোনটির পরে, তা এখনও খোলসা করেনি ইসরো।
চন্দ্রযান-৪ মিশন সফল হলে ভারতের মহাকাশ অভিযানে নতুন মাইলফলক তৈরি হবে। কারণ এই প্রথমবার চাঁদে গিয়ে চাঁদের কণা নিয়ে আসবে ইসরোর চন্দ্রযান। চাঁদের মাটি, পাথর পৃথিবীতে নিয়ে এসে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা করবেন ভারতের মহাকাশবিজ্ঞানীরা।