দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে না ওস্তাদের মার শেষ রাতে!
চন্দ্রযানের রোভার হলে সেই আসল রাজা। এতদিন চর্চায় ছিল বড় বড় নাম, ‘বাহুবলী’ জিএসএলভি মার্ক-৩ রকেট, লুনার অরবিটার এবং হালে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। ভারতের চন্দ্রযাত্রার টিআরপি এই কয়েক সপ্তাহে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’কে ঘিরেই তরতরিয়ে বেড়েছে। তার গঠন কেমন, সে কখন চাঁদের মাটিতে নামবে, কী ভাবে নামবে ইত্যাদি। অথচ ল্যান্ডারের শরীরের ভিতরেই যে যত্ন করে একটি রত্ন লুকিয়ে নিয়ে চাঁদে গেছে চন্দ্রযান, তার খবর ক’জন রেখেছেন!
শুক্রবার ভোর রাতে (ইংরাজি তারিখের হিসেবে শনিবার) ল্যান্ডার বিক্রমের পেট থেকে বেরিয়ে আসবে রোভার। গড়গড়িয়ে চলবে চাঁদের মাটিতে। লুনার সারফেস বা চন্দ্রপৃষ্ঠে ঘুরে ঘুরে আসল কাজ করবে এই রোভার যার নাম ইসরো রেখেছে ‘প্রজ্ঞান।’
এক ঝলকে দেখে নিন ছোট্ট চাকা লাগানো এই যানের বিশেষত্ব-
• ১,৪৭১ কিলোগ্রাম ল্যান্ডারের শরীরের ভিতর লুকিয়ে থাকা এই রোভারের ওজন কিন্তু একেবারেই বেশি নয়, মাত্র
২৭ কিলোগ্রাম।
• ছোট্ট গাড়ির মতো দেখতে রোভারের সঙ্গে লাগানো
৬টি চাকা। মাথার উপর
সোলার প্যানেল। ল্যান্ডারের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসার সময় এই প্যানেল খুলে যাবে।
• সোলার প্যানেলের কাজ কী? বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করা। যে শক্তিকে কাজে লাগিয়েই চাঁদের এবড়ো খেবড়ো মাটিতে চলাফেরা, ছবি তোলা ইত্যাদি কাজ করবে রোভার। একবারে
৫০ ওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারবে সে। অবশ্য ল্যান্ডারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অনেকটাই বেশি, ৬৫০ ওয়াট।
https://twitter.com/isro/status/1169947156381192192
• গুটি গুটি পায়ে ৫০০ মিটার অবধি চলতে পারবে রোভার ‘প্রজ্ঞান।’ দিক নির্ণয় করবে এর নেভিগেশন ক্যামেরা- ডানে ও বামে দু’টি ক্যামেরা (
Nav Camera-R, Nav Camera-L) চাঁদের মাটিতে পথ দেখাবে রোভারকে।
• সোলার প্যানেলের উপর লাগানো
ট্রান্সমিট অ্যান্টেনা, যা তথ্য সংগ্রহ করে অরবিটারে পাঠাতে সাহায্য করবে।
• এর দু’টি যন্ত্র রয়েছে,
‘আলফা পার্টিকল এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার’ যার কাজ অবতরণস্থলের কাছে চন্দ্রপৃষ্ঠে কী কী উপাদান রয়েছে তা দেখবে। ওই যন্ত্রে কিউরিয়াম নামে তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে এক্স-রে ও আলফা পার্টিকল নির্গত হবে এবং তার মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তুলবে। চাঁদের পাথরের মধ্যে লোহা, ম্যাগনেশিয়াম, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, টাইটেনিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে কি না, তার সন্ধানও করবে সে।
• দ্বিতীয় যন্ত্রটির নাম
‘লেসার ইনডিউসড ব্রেকডাউন স্পেকট্রোস্কোপ’। কাজ অবতরণস্থলের আশপাশে চাঁদের মাটিতে কী উপাদান কত পরিমাণে রয়েছে তা খুঁজে বার করা, তবে প্রথম যন্ত্রের থেকে আলাদা পদ্ধতিতে।
• দুঃখের বিষয় হলো কাজ শেষ করার পরেই রোভার নষ্ট হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-isro-chandrayyan-2-inching-towards-the-edge-of-moon-discovery/